শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ও ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। গণভোটের জনগণের রায় অমান্য ও সংবিধান সংস্কারে টালবাহানা করা হলে বর্তমান আন্দোলন সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রভাবশালী নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শাপলা চত্বরের আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনতার রক্ত এবং জুলাই বিপ্লবের বীরদের ত্যাগ ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের শেষ কর্মসূচির বিশাল জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'বিএনপি জাতির সাথে গাদ্দারি করেছে। জনগণের দেওয়া স্পষ্ট রায়ের সাথে কোনো ধরনের চক্রান্ত বা ছলচাতুরি দেশবাসী মেনে নেবে না। আপনারা ক্ষমতার মসনদে বসে জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে, কিংবা সংবিধান সংস্কারে ঘাটতি রাখলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।'আল্লামা মামুনুল হক আরও স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী মূল্যবোধ ও গণআকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা গণভোটে দেশবাসীর কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলাম। আমাদের সম্মিলিত আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের তৌহিদী জনতা গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা ঘাটতি আমরা মেনে নেব না'।তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'আজকে আমাদের আন্দোলনের তৃতীয় ধাপের সূচনা হলো। চট্টগ্রামের এই গণসমুদ্র থেকে আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই—গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের মতামত অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে আমাদের এই সংবিধান সংস্কার আন্দোলন অচিরেই সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।'তবে সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, 'আমাদের লক্ষ্য কেবল সরকার পতন নয়। আমরা ক্ষমতার মোহে আন্দোলন করছি না, বরং সরকারকে ঘুম থেকে জাগানো এবং দেশবিরোধী কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চরম সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য এই কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।'সাবেক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে খেলাফত মজলিস আমির বলেন, 'বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার মেগা উন্নয়নের নানা গল্প শোনাত, কিন্তু বাস্তবে দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং পুরো দেশকে এক বিশাল ঋণের বোঝায় নিমজ্জিত করা হয়েছে।' তিনি দেশকে স্বৈরাচার ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহ ও দেশবাসীর অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।