গাজায় গত দুই বছর ধরে চলা ধ্বংসাত্মক অভিযানে ২২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাবা নিহত হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে হাজার হাজার নারী এখন অথৈ সাগরে। একদিকে ধ্বংসস্তূপের মাঝে সন্তানদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে অন্নের সংস্থান—এই দুই কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে গাজার বিধবারা এখন মা ও বাবার দ্বৈত ভূমিকা পালন করছেন।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। বিশেষ করে পুরুষদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক বাবা হারানোর ঘটনা গাজার সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি করেছে। নারীদের ওপর এখন অসুস্থ সন্তান দেখাশোনা এবং পরিবারের ভরণপোষণের পাহাড়সম চাপ।
খান ইউনুসের আল-বেরেকে শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী সাহের আবু হামরা। তার বড় ছেলেটি হুইলচেয়ারে বন্দী, ছোট মেয়েটি বাম হাত ব্যবহার করতে পারে না। হামলায় স্বামী হারানোর পর পঙ্গু সন্তানদের নিয়ে একাই লড়ছেন তিনি। নিজের পায়েও রয়েছে প্ল্যাটিনাম। আবু হামরা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, "ওদের বাবা নেই, সব বোঝা এখন আমার কাঁধে।"
অন্যদিকে ৪৪ বছর বয়সী নাদওয়া আল-শামালি, যিনি ২০২৪ সালের জুনে স্বামীকে হারিয়েছেন। ৫ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি এখন উলের পোশাক বুনছেন। তিনি জানান, "আমাকে পানি আনতে হয়, খাবার সংগ্রহ করতে হয়। সবকিছু এখন একা হাতেই করতে হচ্ছে।" খাবারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে শুরু করে সুপেয় পানির খোঁজ—সবখানেই এখন গাজার নারীদের লড়াই দৃশ্যমান।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও গাজায় তার প্রতিফলন নেই। স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থনৈতিক স্তম্ভ এবং পরিবারের প্রধানদের টার্গেট করায় গাজায় দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য ও মানবিক সংকট প্রকট হয়েছে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা এই নারীদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
গাজার এই নারীরা কেবল বিধবা নন, তারা ধ্বংসস্তূপের মাঝে টিকে থাকার প্রতীক। তবে কেবল ত্রাণ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়; একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং ইনসাফ কায়েম করা না গেলে এই মানবিক বিপর্যয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলতেই থাকবে।
বিষয় : ফিলিস্তিন

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
গাজায় গত দুই বছর ধরে চলা ধ্বংসাত্মক অভিযানে ২২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাবা নিহত হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে হাজার হাজার নারী এখন অথৈ সাগরে। একদিকে ধ্বংসস্তূপের মাঝে সন্তানদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে অন্নের সংস্থান—এই দুই কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করে গাজার বিধবারা এখন মা ও বাবার দ্বৈত ভূমিকা পালন করছেন।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। বিশেষ করে পুরুষদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক বাবা হারানোর ঘটনা গাজার সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত তৈরি করেছে। নারীদের ওপর এখন অসুস্থ সন্তান দেখাশোনা এবং পরিবারের ভরণপোষণের পাহাড়সম চাপ।
খান ইউনুসের আল-বেরেকে শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী সাহের আবু হামরা। তার বড় ছেলেটি হুইলচেয়ারে বন্দী, ছোট মেয়েটি বাম হাত ব্যবহার করতে পারে না। হামলায় স্বামী হারানোর পর পঙ্গু সন্তানদের নিয়ে একাই লড়ছেন তিনি। নিজের পায়েও রয়েছে প্ল্যাটিনাম। আবু হামরা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, "ওদের বাবা নেই, সব বোঝা এখন আমার কাঁধে।"
অন্যদিকে ৪৪ বছর বয়সী নাদওয়া আল-শামালি, যিনি ২০২৪ সালের জুনে স্বামীকে হারিয়েছেন। ৫ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি এখন উলের পোশাক বুনছেন। তিনি জানান, "আমাকে পানি আনতে হয়, খাবার সংগ্রহ করতে হয়। সবকিছু এখন একা হাতেই করতে হচ্ছে।" খাবারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে শুরু করে সুপেয় পানির খোঁজ—সবখানেই এখন গাজার নারীদের লড়াই দৃশ্যমান।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও গাজায় তার প্রতিফলন নেই। স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থনৈতিক স্তম্ভ এবং পরিবারের প্রধানদের টার্গেট করায় গাজায় দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য ও মানবিক সংকট প্রকট হয়েছে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা এই নারীদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
গাজার এই নারীরা কেবল বিধবা নন, তারা ধ্বংসস্তূপের মাঝে টিকে থাকার প্রতীক। তবে কেবল ত্রাণ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়; একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং ইনসাফ কায়েম করা না গেলে এই মানবিক বিপর্যয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলতেই থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন