মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জয়ের পর কট্টর সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বিজেপি নেতার

মমতাকে হারিয়ে জয়ের পর ‘শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য’ কাজ করার ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর



মমতাকে হারিয়ে জয়ের পর ‘শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য’ কাজ করার ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দুর্গ হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে বড় জয়ের পর সাম্প্রদায়িক মেরুকরণমূলক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের উল্লাস চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, তাকে ভোট দেওয়া হিন্দুদের জন্যই তিনি কাজ করবেন এবং মুসলিম ভোটারদের কট্টরপন্থী হিসেবে অভিহিত করেন।

জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়ে বিভক্ত করেন। তিনি দাবি করেন:

নন্দীগ্রামের হিন্দু ভোটাররা তাকে জয়ী করেছেন, পক্ষান্তরে মুসলিম ভোট পুরোপুরি তৃণমূলের পক্ষে গেছে।

মুসলিম ভোটারদের "কট্টরপন্থী" হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমি নন্দীগ্রামের হিন্দুদের জন্য কাজ করব।"

ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, মুসলিমরা হিজাব পরিহিত মমতাকে একতরফা ভোট দিলেও হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধরা বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছে।

এই জয়কে তিনি ‘হিন্দুত্বের জয়’ এবং ‘মোদীজির জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

বিগত ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুভেন্দু এখন তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল ধ্বংস হয়ে যাবে, কারণ তাদের কোনো আদর্শ নেই।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর মুখ থেকে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করার ঘোষণা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না। শুভেন্দু অধিকারীর ‘শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য কাজ করার’ প্রতিশ্রুতি এই সাংবিধানিক শপথের সরাসরি বিরোধী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সকল নাগরিকের সেবা করতে বাধ্য কি না, তা নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবসরের ঘোষণা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, তার সাম্প্রদায়িক অবস্থান রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য কতটুকু চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : পশ্চিমবঙ্গ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


মমতাকে হারিয়ে জয়ের পর ‘শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য’ কাজ করার ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দুর্গ হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে বড় জয়ের পর সাম্প্রদায়িক মেরুকরণমূলক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের উল্লাস চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, তাকে ভোট দেওয়া হিন্দুদের জন্যই তিনি কাজ করবেন এবং মুসলিম ভোটারদের কট্টরপন্থী হিসেবে অভিহিত করেন।

জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়ে বিভক্ত করেন। তিনি দাবি করেন:

নন্দীগ্রামের হিন্দু ভোটাররা তাকে জয়ী করেছেন, পক্ষান্তরে মুসলিম ভোট পুরোপুরি তৃণমূলের পক্ষে গেছে।

মুসলিম ভোটারদের "কট্টরপন্থী" হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমি নন্দীগ্রামের হিন্দুদের জন্য কাজ করব।"

ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, মুসলিমরা হিজাব পরিহিত মমতাকে একতরফা ভোট দিলেও হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধরা বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছে।

এই জয়কে তিনি ‘হিন্দুত্বের জয়’ এবং ‘মোদীজির জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে তিনি ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

বিগত ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুভেন্দু এখন তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল ধ্বংস হয়ে যাবে, কারণ তাদের কোনো আদর্শ নেই।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর মুখ থেকে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করার ঘোষণা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না। শুভেন্দু অধিকারীর ‘শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য কাজ করার’ প্রতিশ্রুতি এই সাংবিধানিক শপথের সরাসরি বিরোধী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতে ধর্মীয় মেরুকরণ ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সকল নাগরিকের সেবা করতে বাধ্য কি না, তা নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবসরের ঘোষণা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, তার সাম্প্রদায়িক অবস্থান রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য কতটুকু চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ