বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় গাজায় তৎকালীন টেকনোক্র্যাট পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক “বোর্ড অব পিস”-এর তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি রফতানির প্রতিশ্রুতি আছে।

ট্রাম্পের ২০ দফা: গাজা-যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব, তৎকালীন তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বোর্ড


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পের ২০ দফা: গাজা-যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব, তৎকালীন তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বোর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য বিশদ ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন; পরিকল্পনায় বলা আছে-হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং দ্রুত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। ট্রাম্প পরিকল্পনাটি পরবর্তী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজ নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী বোর্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যৌথ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও বিনা শর্তে ব্যাপক জিম্মি মুক্তির লক্ষ্যে একটি ২০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। আনাদোলু সংবাদসংস্থার খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা সফলভাবে কার্যকর হলে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ অবসান ঘটবে এবং সেখানে থাকা সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সদ্য অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র ও অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর শান্তির নীতিমালা ঘোষণা করছি।’ প্রস্তাবনায় হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার নির্দেশ রয়েছে। গাজায় সুরঙ্গ-নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে।

  • জিম্মি মুক্তি ও লাশ হস্তান্তর: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে; পাশাপাশি ২৪ জনের দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হবে। যেসব ইসরাইলি দেহাবশেষ দেয়া হবে, প্রতিটি মৃত ব্যক্তির বিনিময়ে ইসরাইল ১৫ জন করে গাজার নিহত ফিলিস্তিনির লাশ ফেরত দেবে।

  • ইস্তফা ও অস্ত্র ধ্বংস: হামাস তার আক্রমণাত্মক অস্ত্র ঢেলে দিবে এবং গাজার ভূতাত্ত্বিক ও সামরিক-অবকাঠামো, যেমন সুরঙ্গ এবং অস্ত্রগড় ধ্বংস করার বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে।

  • মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন: উভয় পক্ষ সম্মত হলে অবিলম্বে গাজায় পূর্ণ পরিমাণ মানবিক সহায়তা নেয়া হবে এবং গাজা পুনর্নির্মাণ করা হবে।

  • অন্তর্বর্তী প্রশাসন: গাজার দায়িত্ব সাময়িকভাবে একটি “টেকনোক্র্যাট, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি” পরিচালনা করবে। এর তদারকি করবে নতুন আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী সংস্থা—ট্রাম্পের দেওয়া নাম ‘বোর্ড অব পিস’—যার নেতৃত্বে ট্রাম্প নিজে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও যুক্ত থাকবেন বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা আছে।

  • অবস্থানগত শর্ত: গাজার মানুষ তাদের ভোগান্তির সময় গাজাতেই থাকবে; পরিকল্পনায় বলা হয়েছে গাজা কখনও জোরপূর্বক জনবসতি স্থানান্তর করা হবে না এবং ইসরাইল গাজা দখল করবে না।

পরিকল্পনাটি রূপরেখা ভিত্তিক-শান্তি বজায় রাখতে কি দুই পক্ষই তা গ্রহণ করবে, তা সময়ই বলবে। বাস্তবায়নে জটিলতা বিরাজ করছে-জিম্মি বিনিময় ও অস্ত্রধ্বংস নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক তদারকি কিভাবে কার্যকর হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রযুক্তিগতভাবে কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যাবে ইত্যাদি-সবই বাস্তব পরীক্ষার মুখে উঠবে।

টনি ব্লেয়ার বা ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর মতো বহুপাক্ষিক তদারকি যদি বাস্তবে গঠন হয়, তাহলে তা কূটনৈতিক মঞ্চে বড় চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক উত্থাপন করবে-বিশেষত গাজার স্বশাসন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান্যতা সংক্রান্ত বিষয়ে।

প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ত্রাণ ও পুনর্গঠন প্রতিশ্রুতি গাজার জনসংখ্যার অবিলম্বে প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হতে পারে। তবু পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দরকার নির্ভরযোগ্য তত্ত্বাবধান, স্বচ্ছ তহবিল এবং স্থানীয় অংশগ্রহণ। প্রতিপক্ষের অগ্রসর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও নিরাপত্তা আশঙ্কা ভুলভ্রান্তি ছাড়া সমাধান করা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ট্রাম্পের ২০ দফা: গাজা-যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব, তৎকালীন তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক বোর্ড

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য বিশদ ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন; পরিকল্পনায় বলা আছে-হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং দ্রুত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। ট্রাম্প পরিকল্পনাটি পরবর্তী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজ নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী বোর্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যৌথ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও বিনা শর্তে ব্যাপক জিম্মি মুক্তির লক্ষ্যে একটি ২০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। আনাদোলু সংবাদসংস্থার খবরে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা সফলভাবে কার্যকর হলে গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ অবসান ঘটবে এবং সেখানে থাকা সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সদ্য অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র ও অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর শান্তির নীতিমালা ঘোষণা করছি।’ প্রস্তাবনায় হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার নির্দেশ রয়েছে। গাজায় সুরঙ্গ-নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে।

  • জিম্মি মুক্তি ও লাশ হস্তান্তর: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে; পাশাপাশি ২৪ জনের দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হবে। যেসব ইসরাইলি দেহাবশেষ দেয়া হবে, প্রতিটি মৃত ব্যক্তির বিনিময়ে ইসরাইল ১৫ জন করে গাজার নিহত ফিলিস্তিনির লাশ ফেরত দেবে।

  • ইস্তফা ও অস্ত্র ধ্বংস: হামাস তার আক্রমণাত্মক অস্ত্র ঢেলে দিবে এবং গাজার ভূতাত্ত্বিক ও সামরিক-অবকাঠামো, যেমন সুরঙ্গ এবং অস্ত্রগড় ধ্বংস করার বাধ্যবাধকতা মেনে চলবে।

  • মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন: উভয় পক্ষ সম্মত হলে অবিলম্বে গাজায় পূর্ণ পরিমাণ মানবিক সহায়তা নেয়া হবে এবং গাজা পুনর্নির্মাণ করা হবে।

  • অন্তর্বর্তী প্রশাসন: গাজার দায়িত্ব সাময়িকভাবে একটি “টেকনোক্র্যাট, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি” পরিচালনা করবে। এর তদারকি করবে নতুন আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী সংস্থা—ট্রাম্পের দেওয়া নাম ‘বোর্ড অব পিস’—যার নেতৃত্বে ট্রাম্প নিজে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও যুক্ত থাকবেন বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা আছে।

  • অবস্থানগত শর্ত: গাজার মানুষ তাদের ভোগান্তির সময় গাজাতেই থাকবে; পরিকল্পনায় বলা হয়েছে গাজা কখনও জোরপূর্বক জনবসতি স্থানান্তর করা হবে না এবং ইসরাইল গাজা দখল করবে না।

পরিকল্পনাটি রূপরেখা ভিত্তিক-শান্তি বজায় রাখতে কি দুই পক্ষই তা গ্রহণ করবে, তা সময়ই বলবে। বাস্তবায়নে জটিলতা বিরাজ করছে-জিম্মি বিনিময় ও অস্ত্রধ্বংস নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক তদারকি কিভাবে কার্যকর হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রযুক্তিগতভাবে কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যাবে ইত্যাদি-সবই বাস্তব পরীক্ষার মুখে উঠবে।

টনি ব্লেয়ার বা ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর মতো বহুপাক্ষিক তদারকি যদি বাস্তবে গঠন হয়, তাহলে তা কূটনৈতিক মঞ্চে বড় চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক উত্থাপন করবে-বিশেষত গাজার স্বশাসন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান্যতা সংক্রান্ত বিষয়ে।

প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ত্রাণ ও পুনর্গঠন প্রতিশ্রুতি গাজার জনসংখ্যার অবিলম্বে প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হতে পারে। তবু পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দরকার নির্ভরযোগ্য তত্ত্বাবধান, স্বচ্ছ তহবিল এবং স্থানীয় অংশগ্রহণ। প্রতিপক্ষের অগ্রসর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও নিরাপত্তা আশঙ্কা ভুলভ্রান্তি ছাড়া সমাধান করা যাবে না।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত