ইসলামের মৌলিক আকিদা ‘খতমে নবুওয়াত’ অস্বীকারকারী কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার জোরালো দাবি উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর বারিধারা মাদরাসায় আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির ওলামা সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা এই আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ বহু আগেই কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে এবং ইসলামবিরোধী এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম বাংলাদেশে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও জাতীয় সংহতির জন্য হুমকি তৈরি করছে। ৯২% মুসলমানের দেশে ঈমান রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জাতীয় দায়িত্ব।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম দেশের ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস 'খতমে নবুওয়াত' অস্বীকার করার কারণে অমুসলিম হিসাবে গণ্য করে থাকেন। আজ ঢাকার বারিধারা মাদরাসায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির ওলামা সম্মেলন থেকে এই বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করা হয়।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলমান দাবি করলেও তারা বাস্তবে ইসলামের মূল ভিত্তিকে আঘাত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম রাষ্ট্র ইতোমধ্যে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করে আইনগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক।
বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং মুফতি জাবের কাসেমীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, কাদিয়ানিরা ধর্মীয় আবরণে মসজিদ, কুরআন, আজানের মতো ইসলামী প্রতীক ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল পথে চালিত করছে। তাদের এই কার্যকলাপ ঈমানী, আইনগত ও জাতীয় দায়িত্বের পরিপন্থী।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, খতিবে বাঙাল মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি মুহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা রশিদ আহমাদ, মুফতি সালাহ উদ্দিন দিলু রোড, মুফতি বশীর আহমদ, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি খালিদ সাইফুল্লাহ নোমানী এবং মাওলানা আবু ইউসুফ সহ দেশের প্রথিতযশা আলেমরা।
ওলামায়ে কেরাম সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান, সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের মৌলিক বিশ্বাস ও ঈমান রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরও বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ঈমানবিরোধী কোনো গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড বরদাশত করা যেতে পারে না। এই ওলামা সম্মেলন মূলত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রস্ততিমূলক পদক্ষেপ ছিল।
বিষয় : খতমে নবুওয়াত কাদিয়ানি

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
ইসলামের মৌলিক আকিদা ‘খতমে নবুওয়াত’ অস্বীকারকারী কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার জোরালো দাবি উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর বারিধারা মাদরাসায় আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির ওলামা সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা এই আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ বহু আগেই কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে এবং ইসলামবিরোধী এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম বাংলাদেশে ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও জাতীয় সংহতির জন্য হুমকি তৈরি করছে। ৯২% মুসলমানের দেশে ঈমান রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জাতীয় দায়িত্ব।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম দেশের ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস 'খতমে নবুওয়াত' অস্বীকার করার কারণে অমুসলিম হিসাবে গণ্য করে থাকেন। আজ ঢাকার বারিধারা মাদরাসায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির ওলামা সম্মেলন থেকে এই বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করা হয়।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, কাদিয়ানিরা নিজেদের মুসলমান দাবি করলেও তারা বাস্তবে ইসলামের মূল ভিত্তিকে আঘাত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম রাষ্ট্র ইতোমধ্যে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করে আইনগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক।
বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং মুফতি জাবের কাসেমীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, কাদিয়ানিরা ধর্মীয় আবরণে মসজিদ, কুরআন, আজানের মতো ইসলামী প্রতীক ব্যবহার করে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল পথে চালিত করছে। তাদের এই কার্যকলাপ ঈমানী, আইনগত ও জাতীয় দায়িত্বের পরিপন্থী।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, খতিবে বাঙাল মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি মুহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা রশিদ আহমাদ, মুফতি সালাহ উদ্দিন দিলু রোড, মুফতি বশীর আহমদ, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি খালিদ সাইফুল্লাহ নোমানী এবং মাওলানা আবু ইউসুফ সহ দেশের প্রথিতযশা আলেমরা।
ওলামায়ে কেরাম সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান, সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের মৌলিক বিশ্বাস ও ঈমান রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরও বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ঈমানবিরোধী কোনো গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড বরদাশত করা যেতে পারে না। এই ওলামা সম্মেলন মূলত আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসমাবেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রস্ততিমূলক পদক্ষেপ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন