শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পূর্বাচল জমি বরাদ্দ মামলা: শেখ হাসিনা পরিবারসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্বাচল জমি বরাদ্দ মামলা: শেখ হাসিনা পরিবারসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দুদকের করা এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছেন।

রাজধানীর বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সোমবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আসামি করে করা তিন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের জেরা চলছে এবং একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

তিন মামলার অগ্রগতি: প্রথম মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন। সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদিন রাজউকের সাবেক সদস্য খোরশেদের পক্ষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন আসামি। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাজউকের গুলশান জোনের সাবেক পরিচালক তানজিল্লুর রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি। এ মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

একই অভিযোগে সেদিনই দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান দ্বিতীয় মামলা করেন শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তৃতীয় মামলা হয় ১২ জানুয়ারি, যেখানে শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় পূর্বাচল প্রকল্পে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে। তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

আসামিদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউক কর্মকর্তা: তিন মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক সদস্য, পরিচালক, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

বিচারের অগ্রগতি: গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এই তিন মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দুদক কর্মকর্তারা জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলেই সাক্ষ্য গ্রহণের ধাপ শেষ হবে, এরপর মামলাগুলো রায় ঘোষণার পর্যায়ে যাবে।


বিষয় : রাজনীতি দুর্নীতি আদালত দুদক পূর্বাচল প্রকল্প

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পূর্বাচল জমি বরাদ্দ মামলা: শেখ হাসিনা পরিবারসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দুদকের করা এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছেন।

রাজধানীর বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সোমবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আসামি করে করা তিন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের জেরা চলছে এবং একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

তিন মামলার অগ্রগতি: প্রথম মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন। সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদিন রাজউকের সাবেক সদস্য খোরশেদের পক্ষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন আসামি। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাজউকের গুলশান জোনের সাবেক পরিচালক তানজিল্লুর রহমান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন আসামি। এ মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

একই অভিযোগে সেদিনই দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান দ্বিতীয় মামলা করেন শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তৃতীয় মামলা হয় ১২ জানুয়ারি, যেখানে শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় পূর্বাচল প্রকল্পে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে। তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।

আসামিদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউক কর্মকর্তা: তিন মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক সদস্য, পরিচালক, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

বিচারের অগ্রগতি: গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এই তিন মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দুদক কর্মকর্তারা জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলেই সাক্ষ্য গ্রহণের ধাপ শেষ হবে, এরপর মামলাগুলো রায় ঘোষণার পর্যায়ে যাবে।



কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত