মস্কোয় এক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল জানিয়েছে, রাশিয়া নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (nuclear cruise missile) নির্মাণ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের থেকেও তিনগুণ বেশি হবে এবং ভবিষ্যতে তা হাইপারসনিক গতিতেও পৌঁছাতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে তিনি বুরেভেসনিক ও পোসেইডন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানও প্রদান করেন।
রুশ রাজনীতিক ও সামরিক নীতিনির্ধারকরা ক্রমেই আধুনিক অস্ত্রোপকরণ-প্রকল্পে জোর দিচ্ছেন—তারই সাম্প্রতিক কথা জানালেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোতে গত মঙ্গলবার আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের গতির চেয়ে তিনগুণেরও বেশি হবে। ভবিষ্যতে তা হাইপারসনিক গতিতেও পৌঁছাবে।”
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এখন এমনই অস্ত্র নির্মাণ করছে যা বুরেভেসনিক (Burevestnik) ও পোসেইডন (Poseidon) প্রকল্পের মতো একই ধরনের শক্তি ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে। তিনি বুরেভেসনিককে রাশিয়ার জন্য “ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি আগামী কয়েক দশকে দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে পুতিন উল্লেখ করেন, এসব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বেসামরিক খাতে প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে।
ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পুতিন বুরেভেসনিক ও পোসেইডন প্রকল্পে কাজ করা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেন। তিনি বলেন, পোসেইডন প্রকল্প বুরেভেসনিক তৈরির কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং উভয় প্রকল্পই পরস্পর পরিপূরক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
পুতিন কোন দেশের জন্য হুমকি নয়—এমনও দাবি করলেন। তার কথায়, “অন্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মতোই রাশিয়াও তার পারমাণবিক সক্ষমতা আধুনিক করছে।” তিনি আরও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে রাশিয়া নতি স্বীকার করবে না। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২১ অক্টোবর বুরেভেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার সময় পরীক্ষাস্থলের কাছাকাছি ন্যাটোর একটি যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিল; তবু মস্কো তাদের কার্যক্রমে বাধা দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া এই বছরের মধ্যে সারমাত (Sarmat) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমকে যুদ্ধ-পরীক্ষায় ব্যবহার করবে এবং আগামী বছর সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-অবস্থায় মোতায়েন করা হবে—এমন পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর। (সূত্র: আনাদোলু)
বুরেভেসনিক ও পোসেইডন—এই দুটি প্রকল্পই গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব ও বিতর্ক তৈরি করেছে। ক্রুজ-ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন-চালিত হাইপারসনিক প্রযুক্তি সমর্থনযোগ্য কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ায়, তবু এগুলো সমান্তরালে উদ্বেগও বাড়ায়—বিশেষত নিয়ন্ত্রিত বিস্তৃতি, নির্ধারিত লক্ষ্য ও নিয়ন্ত্রণ-চ্যানেলের বিষয়ে। পুতিনের সাম্প্রত বক্তব্য রাশিয়ার সামরিক আধুনিকায়নের ইঙ্গিত জোরালো করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাবশালী প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু
বিষয় : আন্তর্জাতিক রাশিয়া পরমাণু অস্ত্র

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫
মস্কোয় এক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল জানিয়েছে, রাশিয়া নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (nuclear cruise missile) নির্মাণ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের থেকেও তিনগুণ বেশি হবে এবং ভবিষ্যতে তা হাইপারসনিক গতিতেও পৌঁছাতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে তিনি বুরেভেসনিক ও পোসেইডন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানও প্রদান করেন।
রুশ রাজনীতিক ও সামরিক নীতিনির্ধারকরা ক্রমেই আধুনিক অস্ত্রোপকরণ-প্রকল্পে জোর দিচ্ছেন—তারই সাম্প্রতিক কথা জানালেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোতে গত মঙ্গলবার আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি শব্দের গতির চেয়ে তিনগুণেরও বেশি হবে। ভবিষ্যতে তা হাইপারসনিক গতিতেও পৌঁছাবে।”
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এখন এমনই অস্ত্র নির্মাণ করছে যা বুরেভেসনিক (Burevestnik) ও পোসেইডন (Poseidon) প্রকল্পের মতো একই ধরনের শক্তি ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে। তিনি বুরেভেসনিককে রাশিয়ার জন্য “ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি আগামী কয়েক দশকে দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে পুতিন উল্লেখ করেন, এসব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বেসামরিক খাতে প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে।
ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পুতিন বুরেভেসনিক ও পোসেইডন প্রকল্পে কাজ করা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেন। তিনি বলেন, পোসেইডন প্রকল্প বুরেভেসনিক তৈরির কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং উভয় প্রকল্পই পরস্পর পরিপূরক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
পুতিন কোন দেশের জন্য হুমকি নয়—এমনও দাবি করলেন। তার কথায়, “অন্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মতোই রাশিয়াও তার পারমাণবিক সক্ষমতা আধুনিক করছে।” তিনি আরও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে রাশিয়া নতি স্বীকার করবে না। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২১ অক্টোবর বুরেভেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার সময় পরীক্ষাস্থলের কাছাকাছি ন্যাটোর একটি যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিল; তবু মস্কো তাদের কার্যক্রমে বাধা দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া এই বছরের মধ্যে সারমাত (Sarmat) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমকে যুদ্ধ-পরীক্ষায় ব্যবহার করবে এবং আগামী বছর সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-অবস্থায় মোতায়েন করা হবে—এমন পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর। (সূত্র: আনাদোলু)
বুরেভেসনিক ও পোসেইডন—এই দুটি প্রকল্পই গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব ও বিতর্ক তৈরি করেছে। ক্রুজ-ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন-চালিত হাইপারসনিক প্রযুক্তি সমর্থনযোগ্য কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ায়, তবু এগুলো সমান্তরালে উদ্বেগও বাড়ায়—বিশেষত নিয়ন্ত্রিত বিস্তৃতি, নির্ধারিত লক্ষ্য ও নিয়ন্ত্রণ-চ্যানেলের বিষয়ে। পুতিনের সাম্প্রত বক্তব্য রাশিয়ার সামরিক আধুনিকায়নের ইঙ্গিত জোরালো করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাবশালী প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু

আপনার মতামত লিখুন