বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

খাদ্য সংকট ও তহবিল ঘাটতির মধ্যে ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ উদ্যোগে মানবিক সহায়তা

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে পৌঁছাল ইউক্রেনের ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে পৌঁছাল ইউক্রেনের ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) মাধ্যমে এই সহায়তা এসেছে ইউক্রেন, সুইডেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে। এর মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর খাদ্য নিরাপত্তায় সাময়িক স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করেছে। এই তেল এসেছে ইউক্রেন, সুইডেন ও ফ্রান্সের তিন দেশের যৌথ অনুদানের মাধ্যমে, যখন রোহিঙ্গা সংকটে চরম খাদ্য ও অর্থায়ন সংকট বিরাজ করছে।

এই অনুদান হস্তান্তর করা হয় ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ভারত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণে। অনুদানটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে পৌঁছায়, যেখানে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে।

এই সহায়তা এসেছে ইউক্রেন সরকারের উদ্যোগে ২০২২ সালে চালু হওয়া মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ প্রকল্পের আওতায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংকটাপন্ন দেশগুলোতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া।

ডব্লিউএফপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো এই সূর্যমুখী তেল ইউক্রেনেই উৎপাদিত হয়েছে এবং এর ক্রয় ও পরিবহন ব্যয় বাবদ প্রায় ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭০ লাখ ডলার) বহন করেছে সুইডেন সরকার।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ অর্থায়ন ঘাটতি। মৌলিক চাহিদা পূরণে ডব্লিউএফপির রোহিঙ্গা কার্যক্রমে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ ঘাটতি রয়েছে, যার মধ্যে ১৭২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তার জন্য

ডব্লিউএফপি সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন অর্থায়ন না এলে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে খাদ্য রেশন সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এই মানবিক সহায়তার জন্য ইউক্রেন, সুইডেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ সরকারকে তাদের ঐক্য, সহমর্মিতা ও সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বিষয় : রোহিঙ্গা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে পৌঁছাল ইউক্রেনের ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) মাধ্যমে এই সহায়তা এসেছে ইউক্রেন, সুইডেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে। এর মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর খাদ্য নিরাপত্তায় সাময়িক স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৩,০০০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল গ্রহণ করেছে। এই তেল এসেছে ইউক্রেন, সুইডেন ও ফ্রান্সের তিন দেশের যৌথ অনুদানের মাধ্যমে, যখন রোহিঙ্গা সংকটে চরম খাদ্য ও অর্থায়ন সংকট বিরাজ করছে।

এই অনুদান হস্তান্তর করা হয় ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ভারত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণে। অনুদানটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে পৌঁছায়, যেখানে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে।

এই সহায়তা এসেছে ইউক্রেন সরকারের উদ্যোগে ২০২২ সালে চালু হওয়া মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ প্রকল্পের আওতায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংকটাপন্ন দেশগুলোতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া।

ডব্লিউএফপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো এই সূর্যমুখী তেল ইউক্রেনেই উৎপাদিত হয়েছে এবং এর ক্রয় ও পরিবহন ব্যয় বাবদ প্রায় ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭০ লাখ ডলার) বহন করেছে সুইডেন সরকার।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ অর্থায়ন ঘাটতি। মৌলিক চাহিদা পূরণে ডব্লিউএফপির রোহিঙ্গা কার্যক্রমে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ ঘাটতি রয়েছে, যার মধ্যে ১৭২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তার জন্য

ডব্লিউএফপি সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন অর্থায়ন না এলে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে খাদ্য রেশন সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এই মানবিক সহায়তার জন্য ইউক্রেন, সুইডেন, ফ্রান্স ও বাংলাদেশ সরকারকে তাদের ঐক্য, সহমর্মিতা ও সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত