দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাশার আল-আসাদ-এর এক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুতির বার্ষিকীতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশ পুনর্গঠনের এক দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজের পর সামরিক পোশাকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সিরিয়াকে তার অতীত ও বর্তমানের জন্য 'উপযোগী একটি শক্তিশালী দেশে' পরিণত করার প্রত্যয় জানান।
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা সোমবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে রাজধানী দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এদিনটি ছিল সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের প্রথম বার্ষিকী।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা (SANA) জানায়, সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট শারা বলেন,
“আজ সিরিয়া একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে—যে অধ্যায় বর্তমান ও অতীত উভয়ের জন্যই মর্যাদাপূর্ণ।”
তিনি আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“কেউ আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। যত বড় শক্তিই হোক না কেন, আমরা সব চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ।”
দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন,
“উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সমগ্র সিরিয়াকে আবারও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এমন এক পুনর্গঠন হবে, যা আমাদের প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের যোগ্য।”
দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা
সামাজিক ন্যায়বিচার
যুদ্ধাহত নাগরিকদের পুনর্বাসন
ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন
প্রেসিডেন্ট শারা স্পষ্টভাবে বলেন,
“নতুন সিরিয়ার ভিত্তি হবে মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।”
ভাষণের পর প্রেসিডেন্ট শারা উমাইয়া মসজিদের ভেতরে পবিত্র কাবার গিলাফের একটি অংশ স্থাপন করেন, যা তাকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এই প্রতীকী উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় পালিয়ে যান, যার মাধ্যমে ১৯৬৩ সাল থেকে চলা বাথ পার্টির শাসনের অবসান ঘটে।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন নতুন প্রশাসন।
বিষয় : সিরিয়া

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাশার আল-আসাদ-এর এক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুতির বার্ষিকীতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশ পুনর্গঠনের এক দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজের পর সামরিক পোশাকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সিরিয়াকে তার অতীত ও বর্তমানের জন্য 'উপযোগী একটি শক্তিশালী দেশে' পরিণত করার প্রত্যয় জানান।
সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা সোমবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে রাজধানী দামেস্কের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর জাতির উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এদিনটি ছিল সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের প্রথম বার্ষিকী।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা (SANA) জানায়, সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট শারা বলেন,
“আজ সিরিয়া একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে—যে অধ্যায় বর্তমান ও অতীত উভয়ের জন্যই মর্যাদাপূর্ণ।”
তিনি আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“কেউ আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। যত বড় শক্তিই হোক না কেন, আমরা সব চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ।”
দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন,
“উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সমগ্র সিরিয়াকে আবারও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এমন এক পুনর্গঠন হবে, যা আমাদের প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের যোগ্য।”
দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা
সামাজিক ন্যায়বিচার
যুদ্ধাহত নাগরিকদের পুনর্বাসন
ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন
প্রেসিডেন্ট শারা স্পষ্টভাবে বলেন,
“নতুন সিরিয়ার ভিত্তি হবে মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।”
ভাষণের পর প্রেসিডেন্ট শারা উমাইয়া মসজিদের ভেতরে পবিত্র কাবার গিলাফের একটি অংশ স্থাপন করেন, যা তাকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এই প্রতীকী উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় পালিয়ে যান, যার মাধ্যমে ১৯৬৩ সাল থেকে চলা বাথ পার্টির শাসনের অবসান ঘটে।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন নতুন প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন