বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইউরোপে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ঘৃণা এখন কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নীতি, গণমাধ্যম এবং নিরাপত্তা কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে

ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪: প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪: প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষ

ইউরোপে মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এখন রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের ভাষার অংশ—এমনই চিত্র উঠে এসেছে ইউরোপ ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪-এ।

গাজায় চলমান যুদ্ধ ইউরোপে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈরী পরিবেশ আরও তীব্র করেছে।

ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদ দমন, মুসলিম কর্মীদের নজরদারি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়াই এর প্রমাণ।

প্রফেসর ড. এনেস বায়রাকলি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরিদ হাফেজের সম্পাদনায় প্রকাশিত ইউরোপ ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪ ইউরোপজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, ঘৃণা ও বর্জনের ঘটনাগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে নথিবদ্ধ করেছে। দশম বছরে পা রাখা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ এখন আর ব্যতিক্রম নয়; এটি ইউরোপে প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিকীকৃত বাস্তবতা

প্রতিবেদনে আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লিথুয়ানিয়া, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের দেশভিত্তিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে গাজায় সংঘটিত গণহত্যা ইউরোপে ইসলামোফোবিক রাজনীতির প্রধান প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে। বহু ইউরোপীয় রাষ্ট্র বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়, প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মুসলিম অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর ব্যাপক নজরদারি আরোপ করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা কেবল পররাষ্ট্রনীতির আলোচনায় নয়, বরং ‘নিরাপত্তা হুমকি’ বয়ানের কেন্দ্রে অবস্থান করে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মুসলিমবিদ্বেষ

ফ্রান্সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের MICAS কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনিক তল্লাশি আগের বছরের তুলনায় ৫১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যার বড় অংশই মুসলিম পরিবার ও ধর্মীয় নেতাদের লক্ষ্য করে।

জার্মানিতে ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি অভিবাসন নীতি কঠোর করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিন বিষয়ে একাডেমিক মতপ্রকাশ সংকুচিত হয়।

ডেনমার্কের তথাকথিত ‘গেটো আইন’, যা ‘অ-পশ্চিমা’ শ্রেণিবিভাগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্যকে আইনি বৈধতা দিয়েছে এবং বিষয়টি ইউরোপীয় ন্যায়বিচার আদালতে গড়িয়েছে।

আমস্টারডামে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো ইউরোপীয় গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষী বয়ানের পুনরুৎপাদন স্পষ্ট করে। ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী হামলা উপেক্ষিত হলেও সংঘর্ষকে ‘ইহুদিবিরোধী গণহত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংশোধনী দিলেও প্রথম দফার বিভ্রান্তিকর প্রচারণার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বৈষম্য ও ঘৃণা অপরাধে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থা (FRA) জানায়, ইউরোপে প্রায় ৪৭ শতাংশ মুসলিম গত পাঁচ বছরে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, যেখানে ২০১৬ সালে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই বৈষম্যের শিকার হওয়ার হার ৩৫ শতাংশ

সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা গেছে কর্মসংস্থান ও আবাসন খাতে। চাকরি খোঁজার সময় ৩৯ শতাংশ মুসলিম বর্ণবাদী আচরণের মুখে পড়েছেন। ইউরোপে জন্ম নেওয়া তরুণ মুসলিম ও বিশেষ করে হিজাবধারী নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে—১৬–২৪ বছর বয়সী হিজাবধারী নারীদের ৫৮ শতাংশ কর্মবাজারে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

শারীরিক হামলা ও হয়রানির হারেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। পুলিশি তল্লাশির শিকার মুসলিমদের প্রায় অর্ধেক মনে করেন, তাদের জাতিগত বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণেই থামানো হয়েছে।

অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফিনল্যান্ড পরিস্থিতির দিক থেকে সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা Tell MAMA জানায়, ২০১১ সালের পর থেকে হামলা, হুমকি ও মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, মুসলিমবিদ্বেষ এখন কেবল উগ্র ডানপন্থার বিষয় নয়; মূলধারার রাজনীতির অংশে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রিয়ায় FPÖ, নেদারল্যান্ডসে গিয়ার্ট উইল্ডার্সের PVV-এর ক্ষমতায় অংশগ্রহণ এবং পর্তুগাল, স্পেন ও ফিনল্যান্ডে অনুরূপ প্রবণতার উত্থান এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ।

শিক্ষা ও একাডেমিয়া: নতুন সংঘাতক্ষেত্র

ফ্রান্সে আবায়া নিষিদ্ধ করা হয় এবং স্কুল ভ্রমণে হিজাবধারী মায়েদের অংশগ্রহণ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন বিষয়ে মতপ্রকাশকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু হয়।

অনলাইন ইসলামোফোবিয়াও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভুয়া ছবি, ডিপফেক ও সংগঠিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মুসলিমদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ মার্চ—ইসলামোফোবিয়া বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ইউরোপে প্রায় উপেক্ষিত থেকেছে; ব্যতিক্রম কেবল যুক্তরাজ্য।

রিপোর্টের সম্পাদকরা ইউরোপে মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনগুলোকে মানবাধিকারভিত্তিকভাবে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি শক্তিশালীকরণ, স্বচ্ছ তথ্য সংগ্রহ এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষাকে জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয় : ইউরোপ ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪: প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ইউরোপে মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এখন রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের ভাষার অংশ—এমনই চিত্র উঠে এসেছে ইউরোপ ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪-এ।

গাজায় চলমান যুদ্ধ ইউরোপে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈরী পরিবেশ আরও তীব্র করেছে।

ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদ দমন, মুসলিম কর্মীদের নজরদারি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়াই এর প্রমাণ।

প্রফেসর ড. এনেস বায়রাকলি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরিদ হাফেজের সম্পাদনায় প্রকাশিত ইউরোপ ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট ২০২৪ ইউরোপজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, ঘৃণা ও বর্জনের ঘটনাগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে নথিবদ্ধ করেছে। দশম বছরে পা রাখা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ এখন আর ব্যতিক্রম নয়; এটি ইউরোপে প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিকীকৃত বাস্তবতা

প্রতিবেদনে আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লিথুয়ানিয়া, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের দেশভিত্তিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে গাজায় সংঘটিত গণহত্যা ইউরোপে ইসলামোফোবিক রাজনীতির প্রধান প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে। বহু ইউরোপীয় রাষ্ট্র বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়, প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মুসলিম অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর ব্যাপক নজরদারি আরোপ করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা কেবল পররাষ্ট্রনীতির আলোচনায় নয়, বরং ‘নিরাপত্তা হুমকি’ বয়ানের কেন্দ্রে অবস্থান করে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মুসলিমবিদ্বেষ

ফ্রান্সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের MICAS কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনিক তল্লাশি আগের বছরের তুলনায় ৫১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যার বড় অংশই মুসলিম পরিবার ও ধর্মীয় নেতাদের লক্ষ্য করে।

জার্মানিতে ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি অভিবাসন নীতি কঠোর করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিন বিষয়ে একাডেমিক মতপ্রকাশ সংকুচিত হয়।

ডেনমার্কের তথাকথিত ‘গেটো আইন’, যা ‘অ-পশ্চিমা’ শ্রেণিবিভাগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্যকে আইনি বৈধতা দিয়েছে এবং বিষয়টি ইউরোপীয় ন্যায়বিচার আদালতে গড়িয়েছে।

আমস্টারডামে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো ইউরোপীয় গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষী বয়ানের পুনরুৎপাদন স্পষ্ট করে। ইসরায়েলি ফুটবল সমর্থকদের উসকানিমূলক ও বর্ণবাদী হামলা উপেক্ষিত হলেও সংঘর্ষকে ‘ইহুদিবিরোধী গণহত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংশোধনী দিলেও প্রথম দফার বিভ্রান্তিকর প্রচারণার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বৈষম্য ও ঘৃণা অপরাধে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থা (FRA) জানায়, ইউরোপে প্রায় ৪৭ শতাংশ মুসলিম গত পাঁচ বছরে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, যেখানে ২০১৬ সালে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই বৈষম্যের শিকার হওয়ার হার ৩৫ শতাংশ

সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা গেছে কর্মসংস্থান ও আবাসন খাতে। চাকরি খোঁজার সময় ৩৯ শতাংশ মুসলিম বর্ণবাদী আচরণের মুখে পড়েছেন। ইউরোপে জন্ম নেওয়া তরুণ মুসলিম ও বিশেষ করে হিজাবধারী নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে—১৬–২৪ বছর বয়সী হিজাবধারী নারীদের ৫৮ শতাংশ কর্মবাজারে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

শারীরিক হামলা ও হয়রানির হারেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। পুলিশি তল্লাশির শিকার মুসলিমদের প্রায় অর্ধেক মনে করেন, তাদের জাতিগত বা অভিবাসী পরিচয়ের কারণেই থামানো হয়েছে।

অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফিনল্যান্ড পরিস্থিতির দিক থেকে সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা Tell MAMA জানায়, ২০১১ সালের পর থেকে হামলা, হুমকি ও মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, মুসলিমবিদ্বেষ এখন কেবল উগ্র ডানপন্থার বিষয় নয়; মূলধারার রাজনীতির অংশে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রিয়ায় FPÖ, নেদারল্যান্ডসে গিয়ার্ট উইল্ডার্সের PVV-এর ক্ষমতায় অংশগ্রহণ এবং পর্তুগাল, স্পেন ও ফিনল্যান্ডে অনুরূপ প্রবণতার উত্থান এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ।

শিক্ষা ও একাডেমিয়া: নতুন সংঘাতক্ষেত্র

ফ্রান্সে আবায়া নিষিদ্ধ করা হয় এবং স্কুল ভ্রমণে হিজাবধারী মায়েদের অংশগ্রহণ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন বিষয়ে মতপ্রকাশকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু হয়।

অনলাইন ইসলামোফোবিয়াও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভুয়া ছবি, ডিপফেক ও সংগঠিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা মুসলিমদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াচ্ছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ মার্চ—ইসলামোফোবিয়া বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ইউরোপে প্রায় উপেক্ষিত থেকেছে; ব্যতিক্রম কেবল যুক্তরাজ্য।

রিপোর্টের সম্পাদকরা ইউরোপে মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনগুলোকে মানবাধিকারভিত্তিকভাবে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি শক্তিশালীকরণ, স্বচ্ছ তথ্য সংগ্রহ এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষাকে জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত