সৌন্দর্যের লীলাভূমি টেকনাফ,যার নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়-পর্বত, সোনালি সৈকত আর নদী-খালের অপরূপ দৃশ্যপট। নাফনদীর স্রোতধারা একদিকে আঁকড়ে আছে এই জনপদকে, অন্যদিকে পাহাড় আর সমুদ্রের মিলনে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সবুজ সেমল জনপদ। প্রকৃতির মহিমায় ভরপুর এই ভূমি কবির কলমে, চিত্রশিল্পীর তুলিতে কিংবা ভ্রমণপিপাসু মানুষের কল্পনায় ভেসে উঠতে পারতো অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে। অথচ বেদনাদায়ক সত্য হলো, যে টেকনাফের নাম পর্যটনের মানচিত্রে জ্বলজ্বল করার কথা, সে টেকনাফ আজ সারা দেশে মাদকের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়েছে।
পাহাড়ের কোলে যেখানে প্রতিধ্বনিত হওয়ার কথা ছিল ভ্রমণকারীর হাসি, সেখানে আজ ভেসে আসে অপহরণের আতঙ্কিত আর্তনাদ। নাফনদীর তীরে যেখানে ভেসে বেড়ানোর কথা ছিল জীবন-জীবিকার স্রোত, সেখানে আজ নীরবতা, কারণ দীর্ঘদিন ধরে নদীপথ বন্ধ থাকায় মানুষের প্রাচীন জীবিকা বিপর্যস্ত। শাহপরীরদ্বীপের করিডোর বন্ধ থাকায় সীমান্ত-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও নিভে গেছে। কৃষকরা পাহাড়ি জমিতে ফসল ফলাতে পারেন না,অপহরণকারীদের ভয়ে তারা জমিতে পা রাখতেও শঙ্কিত। একদিকে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে সীমান্তের অব্যবস্থাপনা,সব মিলিয়ে টেকনাফের তরুণ সমাজ ক্রমশ বেকারত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে, আর এই অন্ধকারই তাদের টেনে নিচ্ছে মাদকের ভয়াল দুনিয়ায়।
টেকনাফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অনাবিষ্কৃত স্বপ্ন,এখানে গড়ে উঠতে পারতো বৃহৎ পর্যটন শিল্প। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্রের গর্জন,প্রকৃতির এমন বিরল সংমিশ্রণ পৃথিবীর আর কোথাও সহজে মেলে না। কেবল পরিকল্পিত পদক্ষেপ আর দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিলে এই জনপদে ভিড় জমাতে পারতো বিশ্ব-ভ্রমণকারীরা, সৃষ্টি হতো হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গা সঙ্কট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা টেকনাফবাসীর স্বপ্নকে বন্দি করে রেখেছে।
আজ টেকনাফ দ্বিমুখী এক পথে দাঁড়িয়ে। একদিকে আছে প্রকৃতির আশীর্বাদ, যা এই জনপদকে পরিণত করতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে। অন্যদিকে আছে মাদক, অপহরণ আর দারিদ্র্যের শৃঙ্খল, যা এই স্বপ্নকে প্রতিনিয়ত ছিন্নভিন্ন করে চলেছে। তবুও টেকনাফ এখনো সম্ভাবনার বিশাল ভাণ্ডার। পর্যটন শিল্প গড়ে তুললে এখানে কর্মসংস্থানের অসংখ্য দ্বার খুলতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়-সমুদ্রের এ মিলনভূমিকে রূপান্তর করা সম্ভব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে। এ উদ্যোগ কেবল টেকনাফ নয়, গোটা দেশের অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উচ্চ মহলের প্রতি আহ্বান,আজ প্রয়োজন নীতিনির্ধারক, রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কার্যকর পদক্ষেপ। টেকনাফকে মাদকের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করে দিন। অপহরণ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার শৃঙ্খল ভেঙে টেকনাফকে ফিরিয়ে দিন তার প্রাপ্য মর্যাদা।
টেকনাফ শুধু একটি সীমান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের অশেষ সম্ভাবনার দরজা।
আজ যদি সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে একদিন নাফনদীর স্রোতের মতোই টেকনাফের স্বপ্নও বয়ে যাবে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।
বিষয় : টেকনাফ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
সৌন্দর্যের লীলাভূমি টেকনাফ,যার নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়-পর্বত, সোনালি সৈকত আর নদী-খালের অপরূপ দৃশ্যপট। নাফনদীর স্রোতধারা একদিকে আঁকড়ে আছে এই জনপদকে, অন্যদিকে পাহাড় আর সমুদ্রের মিলনে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সবুজ সেমল জনপদ। প্রকৃতির মহিমায় ভরপুর এই ভূমি কবির কলমে, চিত্রশিল্পীর তুলিতে কিংবা ভ্রমণপিপাসু মানুষের কল্পনায় ভেসে উঠতে পারতো অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে। অথচ বেদনাদায়ক সত্য হলো, যে টেকনাফের নাম পর্যটনের মানচিত্রে জ্বলজ্বল করার কথা, সে টেকনাফ আজ সারা দেশে মাদকের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়েছে।
পাহাড়ের কোলে যেখানে প্রতিধ্বনিত হওয়ার কথা ছিল ভ্রমণকারীর হাসি, সেখানে আজ ভেসে আসে অপহরণের আতঙ্কিত আর্তনাদ। নাফনদীর তীরে যেখানে ভেসে বেড়ানোর কথা ছিল জীবন-জীবিকার স্রোত, সেখানে আজ নীরবতা, কারণ দীর্ঘদিন ধরে নদীপথ বন্ধ থাকায় মানুষের প্রাচীন জীবিকা বিপর্যস্ত। শাহপরীরদ্বীপের করিডোর বন্ধ থাকায় সীমান্ত-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও নিভে গেছে। কৃষকরা পাহাড়ি জমিতে ফসল ফলাতে পারেন না,অপহরণকারীদের ভয়ে তারা জমিতে পা রাখতেও শঙ্কিত। একদিকে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে সীমান্তের অব্যবস্থাপনা,সব মিলিয়ে টেকনাফের তরুণ সমাজ ক্রমশ বেকারত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে, আর এই অন্ধকারই তাদের টেনে নিচ্ছে মাদকের ভয়াল দুনিয়ায়।
টেকনাফের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অনাবিষ্কৃত স্বপ্ন,এখানে গড়ে উঠতে পারতো বৃহৎ পর্যটন শিল্প। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্রের গর্জন,প্রকৃতির এমন বিরল সংমিশ্রণ পৃথিবীর আর কোথাও সহজে মেলে না। কেবল পরিকল্পিত পদক্ষেপ আর দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিলে এই জনপদে ভিড় জমাতে পারতো বিশ্ব-ভ্রমণকারীরা, সৃষ্টি হতো হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গা সঙ্কট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা টেকনাফবাসীর স্বপ্নকে বন্দি করে রেখেছে।
আজ টেকনাফ দ্বিমুখী এক পথে দাঁড়িয়ে। একদিকে আছে প্রকৃতির আশীর্বাদ, যা এই জনপদকে পরিণত করতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে। অন্যদিকে আছে মাদক, অপহরণ আর দারিদ্র্যের শৃঙ্খল, যা এই স্বপ্নকে প্রতিনিয়ত ছিন্নভিন্ন করে চলেছে। তবুও টেকনাফ এখনো সম্ভাবনার বিশাল ভাণ্ডার। পর্যটন শিল্প গড়ে তুললে এখানে কর্মসংস্থানের অসংখ্য দ্বার খুলতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়-সমুদ্রের এ মিলনভূমিকে রূপান্তর করা সম্ভব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে। এ উদ্যোগ কেবল টেকনাফ নয়, গোটা দেশের অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উচ্চ মহলের প্রতি আহ্বান,আজ প্রয়োজন নীতিনির্ধারক, রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কার্যকর পদক্ষেপ। টেকনাফকে মাদকের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করে দিন। অপহরণ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার শৃঙ্খল ভেঙে টেকনাফকে ফিরিয়ে দিন তার প্রাপ্য মর্যাদা।
টেকনাফ শুধু একটি সীমান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের অশেষ সম্ভাবনার দরজা।
আজ যদি সঠিক সময়ে সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে একদিন নাফনদীর স্রোতের মতোই টেকনাফের স্বপ্নও বয়ে যাবে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।

আপনার মতামত লিখুন