শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও তেলের বাজারে ধসের আশঙ্কায় রিয়াদ, দোহা ও মাস্কাটের দৌড়ঝাঁপ

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধের কালো মেঘ এড়াতে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা বা দেশটির বর্তমান ব্যবস্থার আকস্মিক পতন পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তেলের বাজারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সৌদি আরব ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতার ও ওমান মার্কিন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগের মাধ্যমগুলো পুনরায় সচল করতে কাজ করছে। গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার প্রথাগত আলোচনার পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে এই দেশগুলো সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (GCC) সদস্য দেশগুলো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর খুশি না হলেও, তারা সেখানে কোনো শূন্যতা বা বিশৃঙ্খলা চায় না। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর সৃষ্ট গৃহযুদ্ধ এবং আইএসআইএল (ISIS)-এর মতো উগ্রবাদী সংগঠনের উত্থানের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো। ৯০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ইরানে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ইরান ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় এবং গত জুনে কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নজির রয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমানে তাদের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্যময় করার জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে কাজ করছে। পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসারের জন্য দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেছেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যাতে আমরা আমাদের সম্পদ জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করতে পারি।"

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের একটি বড় কেন্দ্র। তাই তারাও এই উত্তেজনার আঁচ থেকে বাঁচতে চায়। যদিও এমিরতি কর্মকর্তারা বর্তমানে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ইরানে সহিংসতা কমছে, তবে তিনি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো যুদ্ধের শঙ্কা কাটেনি, যা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তাদের দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য কাতার সৌদি আরব ওমান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধের কালো মেঘ এড়াতে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা বা দেশটির বর্তমান ব্যবস্থার আকস্মিক পতন পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তেলের বাজারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সৌদি আরব ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতার ও ওমান মার্কিন এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগের মাধ্যমগুলো পুনরায় সচল করতে কাজ করছে। গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার প্রথাগত আলোচনার পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে এই দেশগুলো সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (GCC) সদস্য দেশগুলো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর খুশি না হলেও, তারা সেখানে কোনো শূন্যতা বা বিশৃঙ্খলা চায় না। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর সৃষ্ট গৃহযুদ্ধ এবং আইএসআইএল (ISIS)-এর মতো উগ্রবাদী সংগঠনের উত্থানের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো। ৯০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ইরানে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ইরান ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় এবং গত জুনে কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নজির রয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমানে তাদের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্যময় করার জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে কাজ করছে। পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসারের জন্য দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেছেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যাতে আমরা আমাদের সম্পদ জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করতে পারি।"

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের একটি বড় কেন্দ্র। তাই তারাও এই উত্তেজনার আঁচ থেকে বাঁচতে চায়। যদিও এমিরতি কর্মকর্তারা বর্তমানে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ইরানে সহিংসতা কমছে, তবে তিনি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো যুদ্ধের শঙ্কা কাটেনি, যা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তাদের দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত