অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতা বৃদ্ধির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে গড়ে ওঠা আরও ১৮টি অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকার বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে বিতর্কিত ‘অস্ত্র সংস্কার’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৮টি ইহুদি বসতি এলাকার বাসিন্দারা এখন থেকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বেন-গভিরের দাবি, "অস্ত্র জীবন বাঁচায়" এবং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বসতিস্থাপনকারীদের আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেন-গভির সাধারণ ইসরায়েলি এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের অস্ত্রসজ্জিত করার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। এই সংস্কারের ফলে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগে বছরে গড়ে মাত্র ৮ হাজার লাইসেন্স দেওয়া হতো।
নতুন করে অস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পশ্চিম তীরের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন বসতি এলাকা এবং জর্ডান উপত্যকার গুশ এটজিয়ন এলাকাকে। বেন-গভির একে বসতিস্থাপনকারীদের "মৌলিক ও নৈতিক অধিকার" বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গণ-অস্ত্রায়নের তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বসতিস্থাপনকারীদের আগ্রাসনে ১১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার এবং আটক হয়েছেন ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৩৬৫টি অবৈধ ইহুদি বসতি রয়েছে, যেখানে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বাস করে। অথচ একই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন এবং সেখানে জনসংখ্যা স্থানান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল সরকার ক্রমাগত এসব অবৈধ বসতিকে বৈধতা দিচ্ছে এবং তাদের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিয়ে অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
বিষয় : ফিলিস্তিন পশ্চিম তীর

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও সহিংসতা বৃদ্ধির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে গড়ে ওঠা আরও ১৮টি অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকার বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে বিতর্কিত ‘অস্ত্র সংস্কার’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৮টি ইহুদি বসতি এলাকার বাসিন্দারা এখন থেকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বেন-গভিরের দাবি, "অস্ত্র জীবন বাঁচায়" এবং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বসতিস্থাপনকারীদের আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেন-গভির সাধারণ ইসরায়েলি এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের অস্ত্রসজ্জিত করার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। এই সংস্কারের ফলে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগে বছরে গড়ে মাত্র ৮ হাজার লাইসেন্স দেওয়া হতো।
নতুন করে অস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পশ্চিম তীরের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন বসতি এলাকা এবং জর্ডান উপত্যকার গুশ এটজিয়ন এলাকাকে। বেন-গভির একে বসতিস্থাপনকারীদের "মৌলিক ও নৈতিক অধিকার" বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গণ-অস্ত্রায়নের তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বসতিস্থাপনকারীদের আগ্রাসনে ১১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার এবং আটক হয়েছেন ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৩৬৫টি অবৈধ ইহুদি বসতি রয়েছে, যেখানে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বাস করে। অথচ একই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন এবং সেখানে জনসংখ্যা স্থানান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল সরকার ক্রমাগত এসব অবৈধ বসতিকে বৈধতা দিচ্ছে এবং তাদের হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিয়ে অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন