ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৮ (মতিঝিল-শাহজাহানপুর) এলাকায় ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, অন্তত ৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি সশরীরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও গণনার সময় ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টরা। তাদের দাবি, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা কেন্দ্র দখল করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শাহিন আহমেদ গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে তিনবার ভোট গণনা করার পরও ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। উল্টো এনসিপির এজেন্টদের আটকে রেখে ‘বাতিল ভোট’ গুলোকে ধানের শীষের পক্ষে ‘বৈধ ভোট’ হিসেবে যুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অভিযোগ ওঠা কেন্দ্রগুলো হলো: ১. সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ২. মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ ৩. ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় ৪. মাহবুব আলী ইনস্টিটিউট ৫. মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজ ৬. পল্টন পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র
শাহীন আহমেদ খান অভিযোগ করেন, মাহবুব আলী ইনস্টিটিউট ও মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজে ভোট গণনা শেষে তারা প্রাথমিক ফলাফলপত্র (ফলাফল শিট) হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসের লোকজন সেই ফলাফল পাল্টে দিতে পুনরায় গণনার জন্য প্রভাব বিস্তার করছেন। এছাড়া পল্টনের পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে গণনা শেষ হলেও বিএনপির লোকজনের বাধার কারণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফলাফল প্রকাশ করতে পারছেন না বলে তিনি দাবি করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না এবং অনেকটা জিম্মি অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এই অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখছেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। তবে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনে এবার লড়াই হচ্ছে মূলত বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাস এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে। ১২টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলে মির্জা আব্বাস ৯২৬ ভোটে এগিয়ে থাকলেও এই ৬টি কেন্দ্রের অভিযোগ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৮ (মতিঝিল-শাহজাহানপুর) এলাকায় ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, অন্তত ৬টি কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি সশরীরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও গণনার সময় ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এনসিপি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টরা। তাদের দাবি, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা কেন্দ্র দখল করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শাহিন আহমেদ গুরুতর অভিযোগ তুলে জানান, নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে তিনবার ভোট গণনা করার পরও ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। উল্টো এনসিপির এজেন্টদের আটকে রেখে ‘বাতিল ভোট’ গুলোকে ধানের শীষের পক্ষে ‘বৈধ ভোট’ হিসেবে যুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অভিযোগ ওঠা কেন্দ্রগুলো হলো: ১. সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ২. মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ ৩. ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় ৪. মাহবুব আলী ইনস্টিটিউট ৫. মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজ ৬. পল্টন পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র
শাহীন আহমেদ খান অভিযোগ করেন, মাহবুব আলী ইনস্টিটিউট ও মির্জা আব্বাস ডিগ্রি কলেজে ভোট গণনা শেষে তারা প্রাথমিক ফলাফলপত্র (ফলাফল শিট) হাতে পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসের লোকজন সেই ফলাফল পাল্টে দিতে পুনরায় গণনার জন্য প্রভাব বিস্তার করছেন। এছাড়া পল্টনের পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে গণনা শেষ হলেও বিএনপির লোকজনের বাধার কারণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফলাফল প্রকাশ করতে পারছেন না বলে তিনি দাবি করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না এবং অনেকটা জিম্মি অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এই অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখছেন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। তবে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনে এবার লড়াই হচ্ছে মূলত বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাস এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে। ১২টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলে মির্জা আব্বাস ৯২৬ ভোটে এগিয়ে থাকলেও এই ৬টি কেন্দ্রের অভিযোগ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন