পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তাদের ১২ জন সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। দুই দেশই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে দেশটির দৈনিক Express Tribune জানায়, আফগান হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।
চৌধুরী দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ২২টি এলাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত ৮৩টি অবস্থান ধ্বংস করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে “২৭৪ তালেবান যোদ্ধা” নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল Geo News জানায়, দেশজুড়ে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ড্রোন উড্ডয়ন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
শুক্রবার রাতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabul ছাড়াও Kandahar Province এবং Paktika Province প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগানিস্তানের সামরিক অভিযানের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
একই দিনে পাকিস্তান দাবি করে, তাদের অভিযানে ১৩৩ আফগান নাগরিক নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিপরীতে আফগান সরকার জানায়, পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় তাদের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
গত রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাতটি স্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে “সন্ত্রাসী শিবির” হিসেবে উল্লেখ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাবুলে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেয় আফগান সরকার এবং “উপযুক্ত ও পরিকল্পিত জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইসলামাবাদ কাবুল প্রশাসনের কাছে Tehrik-i-Taliban Pakistan-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে এবং অভিযোগ করে, তারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে আফগান প্রশাসন তাদের ভূখণ্ডে Tehrik-i-Taliban Pakistan-এর সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের বিতর্কিত Durand Line অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত এই সীমারেখা কার্যত দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এটি নিয়ে ঐতিহাসিক বিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি।
বিষয় : পাকিস্তান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তাদের ১২ জন সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। দুই দেশই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে দেশটির দৈনিক Express Tribune জানায়, আফগান হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন।
চৌধুরী দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ২২টি এলাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত ৮৩টি অবস্থান ধ্বংস করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে “২৭৪ তালেবান যোদ্ধা” নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল Geo News জানায়, দেশজুড়ে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ড্রোন উড্ডয়ন সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
শুক্রবার রাতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabul ছাড়াও Kandahar Province এবং Paktika Province প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগানিস্তানের সামরিক অভিযানের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
একই দিনে পাকিস্তান দাবি করে, তাদের অভিযানে ১৩৩ আফগান নাগরিক নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বিপরীতে আফগান সরকার জানায়, পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় তাদের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
গত রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাতটি স্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে “সন্ত্রাসী শিবির” হিসেবে উল্লেখ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাবুলে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেয় আফগান সরকার এবং “উপযুক্ত ও পরিকল্পিত জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইসলামাবাদ কাবুল প্রশাসনের কাছে Tehrik-i-Taliban Pakistan-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে এবং অভিযোগ করে, তারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে আফগান প্রশাসন তাদের ভূখণ্ডে Tehrik-i-Taliban Pakistan-এর সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের বিতর্কিত Durand Line অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত এই সীমারেখা কার্যত দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এটি নিয়ে ঐতিহাসিক বিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি।

আপনার মতামত লিখুন