মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু আরব দেশে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল-আজহার আল-শরিফের প্রধান শায়খ আহমেদ আল-তৈয়ব। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে এক ফোনালাপে আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল-তৈয়ব আমিরাতের জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। আমিরাতি বার্তা সংস্থা (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, ফোনালাপকালে গ্র্যান্ড ইমাম সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম আরব দেশগুলোর ভূখণ্ডে ইরানের 'নির্লজ্জ' হামলার কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আলাপকালে দুই নেতা এই অঞ্চলে দ্রুত ধাবমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উভয়ই সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সংলাপ ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানান, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও চরম অবনতির দিকে না যায়।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বেশ কিছু আরব দেশে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, তারা ওইসব অঞ্চলে থাকা 'মার্কিন ঘাঁটি' লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে, যা মূলত মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনের পাল্টা জবাব। তবে এই সব হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়া এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইতিপূর্বেই এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীসহ উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার আঁচ পড়ছে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপরও।
বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য মিশর

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু আরব দেশে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল-আজহার আল-শরিফের প্রধান শায়খ আহমেদ আল-তৈয়ব। তিনি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে এক ফোনালাপে আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল-তৈয়ব আমিরাতের জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। আমিরাতি বার্তা সংস্থা (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, ফোনালাপকালে গ্র্যান্ড ইমাম সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম আরব দেশগুলোর ভূখণ্ডে ইরানের 'নির্লজ্জ' হামলার কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আলাপকালে দুই নেতা এই অঞ্চলে দ্রুত ধাবমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উভয়ই সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সংলাপ ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানান, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও চরম অবনতির দিকে না যায়।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বেশ কিছু আরব দেশে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, তারা ওইসব অঞ্চলে থাকা 'মার্কিন ঘাঁটি' লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে, যা মূলত মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনের পাল্টা জবাব। তবে এই সব হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়া এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইতিপূর্বেই এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনীসহ উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার আঁচ পড়ছে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপরও।

আপনার মতামত লিখুন