গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১৫৩ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং গাজা ও লেবাননের পর এবার ইরানেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিশ্ববিবেচনাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি সাধারণ দিন মুহূর্তেই নরককুণ্ডে পরিণত হয়, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ শিশু। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কোনো সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়নি, ফলে বাঁচার কোনো সুযোগই পায়নি তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সমরকৌশলের অংশ, যা তারা গাজা ও লেবাননে প্রয়োগ করে আসছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে গাজার আল-তাবিন স্কুলে হামলায় ১০০ জনের বেশি এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে আল-বুরাক স্কুলে ৫০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
কেবল ইরান বা গাজা নয়, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ১০০ টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তারা লেবাননের স্কুল ও মসজিদে হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছিল, সেখানে হিজবুল্লাহর আস্তানা ছিল। একইভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্কুলগুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ভাঙচুর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্মৃতি মুছে দেওয়ার লক্ষ্যেই স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—কবে থামবে এই শিশু হত্যা? এবং আর কত প্রাণ গেলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে?
বিষয় : ইরান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১৫৩ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং গাজা ও লেবাননের পর এবার ইরানেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিশ্ববিবেচনাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি সাধারণ দিন মুহূর্তেই নরককুণ্ডে পরিণত হয়, যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ শিশু। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কোনো সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়নি, ফলে বাঁচার কোনো সুযোগই পায়নি তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সমরকৌশলের অংশ, যা তারা গাজা ও লেবাননে প্রয়োগ করে আসছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে গাজার আল-তাবিন স্কুলে হামলায় ১০০ জনের বেশি এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে আল-বুরাক স্কুলে ৫০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হন।
কেবল ইরান বা গাজা নয়, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ১০০ টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তারা লেবাননের স্কুল ও মসজিদে হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছিল, সেখানে হিজবুল্লাহর আস্তানা ছিল। একইভাবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্কুলগুলোতে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ভাঙচুর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্মৃতি মুছে দেওয়ার লক্ষ্যেই স্কুলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—কবে থামবে এই শিশু হত্যা? এবং আর কত প্রাণ গেলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে?

আপনার মতামত লিখুন