সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

আইআরজিসির দাবি—ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এমকিউ-৯সহ একাধিক উন্নত ড্রোন ধ্বংস; ইসরায়েলে একাধিকবার বিমান হামলার সাইরেন

১৩ মার্কিন–ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ



১৩ মার্কিন–ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন ও আকাশযান তারা ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরক্ষা অভিযানে এসব আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এমকিউ-৯, হারমেস এবং অরবিটার ধরনের মোট ১৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন নির্মিত MQ‑9 Reaper ড্রোন এবং ইসরায়েলি নির্মিত Hermes 450 UAVOrbiter UAV মডেলের ড্রোন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইসফাহান ও কেরমান প্রদেশ এবং রাজধানী তেহরান অঞ্চলেও কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশের মধ্যে ইসরায়েলের পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটিতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

সংবাদ সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়বার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে ঘিরে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য ইসরায়েল যুদ্ধ ইরান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


১৩ মার্কিন–ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের, পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন ও আকাশযান তারা ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরক্ষা অভিযানে এসব আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এমকিউ-৯, হারমেস এবং অরবিটার ধরনের মোট ১৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন নির্মিত MQ‑9 Reaper ড্রোন এবং ইসরায়েলি নির্মিত Hermes 450 UAVOrbiter UAV মডেলের ড্রোন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইরানের উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইসফাহান ও কেরমান প্রদেশ এবং রাজধানী তেহরান অঞ্চলেও কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশের মধ্যে ইসরায়েলের পশ্চিম জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটিতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

সংবাদ সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়বার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে ঘিরে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত