মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত যুদ্ধের দামামার মধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠস্বর রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শনিবার রাতে তেল আবিব, হাইফা ও পশ্চিম জেরুজালেমে আয়োজিত যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো পুলিশি হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে গেছে। শান্তিপ্রিয় আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হলেও উগ্রবাদী হামলাকারীদের প্রতি পুলিশের শিথিলতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ এবং ডানপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই বিক্ষোভ দমনের সপক্ষে "জননিরাপত্তা" ও "রাষ্ট্রদ্রোহের" যুক্তি দিচ্ছে। তেল আবিবের সমাবেশস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী এবং সেখানে উপস্থিত ডানপন্থী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, "পাবলিক অর্ডার" বা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ডানপন্থী কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের "দেশদ্রোহী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমাবেশে উপস্থিত নেসেট সদস্য ওফার কাসিফকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে তারা স্লোগান দেয়। সরকারি বলয়ের সমর্থকদের দাবি, যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে সরকারের সমালোচনা বা যুদ্ধের বিরোধিতা করা জাতীয় সংহতির পরিপন্থী। পুলিশের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে একজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও উগ্রপন্থী উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন অ্যাক্টিভিস্ট সমবেত হন। হিব্রু দৈনিক 'হারেৎজ'-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সেখানে উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বাধা দিতে শুরু করে। ঠিক এই মুহূর্তেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষের অজুহাতে বিক্ষোভকারীদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
একই সময়ে হাইফা শহরে আরব নেসেট সদস্য আয়মান ওদাহর উপস্থিতিতে আরেকটি যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালায় এবং ক্রমাগত ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। পশ্চিম জেরুজালেমের বেলফোর স্ট্রিটে সমবেত বিক্ষোভকারীরা বর্তমান সরকারকে "৭ অক্টোবরের সরকার" আখ্যা দিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা এবং পশ্চিম তীরে "ইহুদি সন্ত্রাসবাদ" উস্কে দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও লেবাননের ওপর শুরু হওয়া ভয়াবহ সামরিক অভিযানে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একদল সচেতন নাগরিক যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি প্রশাসন যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাকে কঠোরভাবে সেন্সর করছে।
বিষয় : ইসরায়েল

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত যুদ্ধের দামামার মধ্যে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠস্বর রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শনিবার রাতে তেল আবিব, হাইফা ও পশ্চিম জেরুজালেমে আয়োজিত যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো পুলিশি হস্তক্ষেপে পণ্ড হয়ে গেছে। শান্তিপ্রিয় আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হলেও উগ্রবাদী হামলাকারীদের প্রতি পুলিশের শিথিলতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ এবং ডানপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই বিক্ষোভ দমনের সপক্ষে "জননিরাপত্তা" ও "রাষ্ট্রদ্রোহের" যুক্তি দিচ্ছে। তেল আবিবের সমাবেশস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী এবং সেখানে উপস্থিত ডানপন্থী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, "পাবলিক অর্ডার" বা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ডানপন্থী কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের "দেশদ্রোহী" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমাবেশে উপস্থিত নেসেট সদস্য ওফার কাসিফকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে তারা স্লোগান দেয়। সরকারি বলয়ের সমর্থকদের দাবি, যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে সরকারের সমালোচনা বা যুদ্ধের বিরোধিতা করা জাতীয় সংহতির পরিপন্থী। পুলিশের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে একজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হলেও উগ্রপন্থী উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন অ্যাক্টিভিস্ট সমবেত হন। হিব্রু দৈনিক 'হারেৎজ'-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সেখানে উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বাধা দিতে শুরু করে। ঠিক এই মুহূর্তেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষের অজুহাতে বিক্ষোভকারীদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
একই সময়ে হাইফা শহরে আরব নেসেট সদস্য আয়মান ওদাহর উপস্থিতিতে আরেকটি যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালায় এবং ক্রমাগত ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। পশ্চিম জেরুজালেমের বেলফোর স্ট্রিটে সমবেত বিক্ষোভকারীরা বর্তমান সরকারকে "৭ অক্টোবরের সরকার" আখ্যা দিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা এবং পশ্চিম তীরে "ইহুদি সন্ত্রাসবাদ" উস্কে দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও লেবাননের ওপর শুরু হওয়া ভয়াবহ সামরিক অভিযানে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একদল সচেতন নাগরিক যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলি প্রশাসন যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাকে কঠোরভাবে সেন্সর করছে।

আপনার মতামত লিখুন