সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী জুরিখের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। কট্টরপন্থীদের নেতিবাচক প্রচার ও কাঠামোগত বাধা উপেক্ষা করে মাত্র ২০ বছর বয়সে জুরিখ সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী ভেরা চেলিক। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SP) টিকিটে বিজয়ী ভেরা কেবল এই কাউন্সিলের প্রথম হিজাবধারী সদস্যই নন, বরং বর্তমান মেয়াদের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেরা চেলিক তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "একজন ২০ বছর বয়সী তরুণী হিসেবে প্রথম প্রচেষ্টাতেই স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। জুরিখের মতো একটি বহুত্ববাদী সমাজে হিজাবধারী কোনো প্রতিনিধি আগে ছিল না। এখন আমাদের কাছে মুসলিম সমাজ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।"
চেলিক জানান, আগামী মে মাসে যখন কাউন্সিলের নতুন অধিবেশন শুরু হবে, সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এটি তার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বের।
সুইজারল্যান্ডে মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ বা 'অ্যান্টি-মুসলিম রেসিজম' মোকাবিলা করা চেলিকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, হিজাব বা মুসলিম পরিচয়ের কারণে অনেকের মনেই গভীর পক্ষপাতিত্ব কাজ করে। তিনি বলেন, "আমরা একে শুধু 'ইসলামোফোবিয়া' বলতে চাই না, কারণ এটি মূলত মুসলিম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যে কারোর বিরুদ্ধে একটি প্রাত্যহিক বৈষম্য। রাজনীতিতে আমাদের দৃশ্যমানতা এই ভয় ও কুসংস্কার দূর করতে সহায়ক হবে।"
নিজের তুর্কি শেকড়ের কথা স্মরণ করে চেলিক বলেন, "আমি জুরিখে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ। আমি চাই এখানকার অভিবাসী ও মুসলিম তরুণরা রাজনীতিতে সাহসী হয়ে আসুক। সংসদ কেবল বয়স্কদের জায়গা নয়। যখন সাধারণ মানুষ এখানে নিজেদের মতো কাউকে দেখতে পাবে না, তখনই প্রতিনিধিত্বের অভাব অনুভূত হয়। আমি সেই অভাব পূরণ করতে চাই।"
ভেরা চেলিক গত ৪ বছর ধরে তার দলের হয়ে বর্ণবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক লক্ষ্য এবং ধৈর্য থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমর্থন তিনি পাচ্ছেন, তা তাকে আগামী ৪ বছর জুরিখের মানুষের সেবায় কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
বিষয় : সুইজারল্যান্ড

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী জুরিখের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। কট্টরপন্থীদের নেতিবাচক প্রচার ও কাঠামোগত বাধা উপেক্ষা করে মাত্র ২০ বছর বয়সে জুরিখ সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী ভেরা চেলিক। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SP) টিকিটে বিজয়ী ভেরা কেবল এই কাউন্সিলের প্রথম হিজাবধারী সদস্যই নন, বরং বর্তমান মেয়াদের সর্বকনিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভেরা চেলিক তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "একজন ২০ বছর বয়সী তরুণী হিসেবে প্রথম প্রচেষ্টাতেই স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। জুরিখের মতো একটি বহুত্ববাদী সমাজে হিজাবধারী কোনো প্রতিনিধি আগে ছিল না। এখন আমাদের কাছে মুসলিম সমাজ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।"
চেলিক জানান, আগামী মে মাসে যখন কাউন্সিলের নতুন অধিবেশন শুরু হবে, সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এটি তার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বের।
সুইজারল্যান্ডে মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদ বা 'অ্যান্টি-মুসলিম রেসিজম' মোকাবিলা করা চেলিকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, হিজাব বা মুসলিম পরিচয়ের কারণে অনেকের মনেই গভীর পক্ষপাতিত্ব কাজ করে। তিনি বলেন, "আমরা একে শুধু 'ইসলামোফোবিয়া' বলতে চাই না, কারণ এটি মূলত মুসলিম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যে কারোর বিরুদ্ধে একটি প্রাত্যহিক বৈষম্য। রাজনীতিতে আমাদের দৃশ্যমানতা এই ভয় ও কুসংস্কার দূর করতে সহায়ক হবে।"
নিজের তুর্কি শেকড়ের কথা স্মরণ করে চেলিক বলেন, "আমি জুরিখে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ। আমি চাই এখানকার অভিবাসী ও মুসলিম তরুণরা রাজনীতিতে সাহসী হয়ে আসুক। সংসদ কেবল বয়স্কদের জায়গা নয়। যখন সাধারণ মানুষ এখানে নিজেদের মতো কাউকে দেখতে পাবে না, তখনই প্রতিনিধিত্বের অভাব অনুভূত হয়। আমি সেই অভাব পূরণ করতে চাই।"
ভেরা চেলিক গত ৪ বছর ধরে তার দলের হয়ে বর্ণবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক লক্ষ্য এবং ধৈর্য থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমর্থন তিনি পাচ্ছেন, তা তাকে আগামী ৪ বছর জুরিখের মানুষের সেবায় কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন