যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে প্রবেশের সময় ধর্মীয় বিশ্বাস উপেক্ষা করে দাড়ি কাটতে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগে এক মুসলিম বন্দি বড় জয় পেয়েছেন। কারারক্ষীদের এমন আচরণকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে করা মামলায় শেষ পর্যন্ত ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ডলার (প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাজউদ্দীন আশাহিদ নামক এক ব্যক্তি যখন কারাগারে প্রবেশ করছিলেন, তখন কারারক্ষীরা তাকে তার দাড়ি পুরোপুরি পরিষ্কার বা শেভ করার নির্দেশ দেন। তাজউদ্দীন জানান, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী তিনি দাড়ি রেখেছেন এবং এটি তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তার আপত্তি সত্ত্বেও কর্তব্যরত কর্মকর্তারা তাকে দাড়ি কাটতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।তাজউদ্দীন আশাহিদ এই ঘটনার পর মার্কিন আদালতের শরণাপন্ন হন। তার মামলার মূল ভিত্তি ছিল মার্কিন সংবিধানের 'প্রথম সংশোধনী' (First Amendment), যা প্রত্যেক নাগরিককে অবাধে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করে। তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারের ওই কর্মকর্তার আদেশ কেবল অবমাননাকরই ছিল না, বরং তা সরাসরি তার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন।যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম '৯নিউজ'-এর তথ্যমতে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আদালতের বাইরে মিমাংসা বা সেটলমেন্ট করতে রাজি হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, তাজউদ্দীনকে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যদিও বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দোষ স্বীকার করেনি। সাধারণত মার্কিন আইনি ব্যবস্থায় 'সেটলমেন্ট'-এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদী মামলা এড়ানো, তবে এটি পরোক্ষভাবে ভুক্তভোগীর অভিযোগের যৌক্তিকতাকেই প্রমাণ করে। মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার পথে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন।