জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর কাশ্মীরবিষয়ক কনট্যাক্ট গ্রুপ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব ইসমাইল ওউল্দ শেখ আহমেদ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা ভারত সরকারের হাতে বন্দি বিশিষ্ট কাশ্মীরি রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি এবং বিতর্কিত ভূখণ্ডটিতে ভারতের সামরিক বাড়াবাড়ি ও জনসংখ্যার অনুপাত পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আবহে অনুষ্ঠিত এই মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, আজারবাইজান এবং নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব ইসমাইল ওউল্দ শেখ আহমেদ কাশ্মীর সংকটের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি ন্যায়সংগত এবং স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কারাবন্দি নেতাদের নিয়ে গভীর উদ্বেগবৈঠক শেষে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপ ভারতীয় দখলদারিত্বের অধীনে থাকা কাশ্মীরের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সুদীর্ঘ কারাবাস এবং জামিন না দেওয়ার কঠোর নিন্দা জানায়। বিশেষ করে অল পার্টিজ হুররিয়াত কনফারেন্সের শীর্ষ নেতা ইয়াসিন মালিক, আসিয়া আন্দ্রাবি এবং মারাত্মক মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত শাব্বির আহমদ শাহকে কারারুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। এছাড়াও হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের আটক এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ভারতীয় পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়।সামরিক আগ্রাসন ও জনসংখ্যা পরিবর্তনের চক্রান্তপাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বৈঠকে ভারতীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ভারতের এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের অবৈধ পদক্ষেপের পর থেকে বিতর্কিত অঞ্চলটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা, রাজনৈতিক কাঠামো এবং সংস্কৃতি ধ্বংস করার ধারাবাহিক চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৪ লাখেরও বেশি বহিরাগতকে ভুয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়ে কাশ্মীরের মুসলিম ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনো অভ্যন্তরীণ আইন বা ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা পাবে না।আঞ্চলিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকনট্যাক্ট গ্রুপ সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর বিরোধের রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। ১৯৪৭ সাল থেকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই প্রতিবেশীর তিনটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ও একাধিক সীমান্ত সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এই কাশ্মীর ইস্যুটিকে জাতিসংঘ সনদের আলোকে সমাধানের বিকল্প নেই।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।