বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

কেরালায় সাম্প্রদায়িক প্রচারণার দায়ে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

কেরালা বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যের গুরুভায়ুর ও আলুভা আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 'মুসলিম বিধায়ক বনাম হিন্দু বিধায়ক' স্লোগান দিয়ে প্রচারণা চালানোর পর স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কেরালার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালানোর দায়ে বিজেপি নেতা বি গোপালকৃষ্ণান এবং এমএ ব্রহ্মরাজের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। গুরুভায়ুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গোপালকৃষ্ণান এবং আলুভা আসনের প্রার্থী ব্রহ্মরাজ তাদের নির্বাচনী হোর্ডিং ও পোস্টারে পরোক্ষভাবে মুসলিম প্রতিনিধিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।বিজেপি প্রার্থী বি গোপালকৃষ্ণান তার নির্বাচনী পোস্টারে দাবি করেছেন যে, গত ৫০ বছরে গুরুভায়ুর মন্দির শহর থেকে কোনো হিন্দু বিধায়ক নির্বাচিত হননি। তার পোস্টারে ১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচিত সকল মুসলিম বিধায়কদের নামের তালিকা একটি সবুজ পটভূমিতে তুলে ধরা হয়েছে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— "আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না?" অন্যদিকে, জাফরান রঙের অংশে তার নিজের ছবির পাশে লেখা হয়েছে— "৫০ বছরের অবজ্ঞা, এবার বদল চাই।"একই কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন আলুভার বিজেপি প্রার্থী এমএ ব্রহ্মরাজ। ১৯৫৭ সাল থেকে ওই আসনের সকল মুসলিম বিধায়কদের তালিকা দিয়ে তিনি ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, কেরালার বহু আসনে হিন্দু বিধায়করা জয়ী হয়ে আসছেন, সেখানে এই ধরণের প্রচারণা কেবল বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা।কেরালা স্টুডেন্ট ইউনিয়নের নেতা গোকুল গুরুভায়ুরের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ECI) পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বি গোপালকৃষ্ণানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২ ধারা (দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা) এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিজেপি নেতারা তাদের বক্তব্যে অনড় রয়েছেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেরালায় যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সেখানে বিজেপির এই 'মেরুকরণ কৌশল' হিতে বিপরীত হতে পারে। সাধারণ মানুষ এই ধরণের বিভাজনমূলক রাজনীতিকে সহজভাবে গ্রহণ করছে না।

কেরালায় সাম্প্রদায়িক প্রচারণার দায়ে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা