বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

জর্ডানের বিরুদ্ধে মার্কিন আকাশসীমা ব্যবহারের তীব্র নিন্দা, সাফাদির বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন আরাঘচি

ভিয়েনায় জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর নিজ দেশের আত্মরক্ষামূলক সামরিক তৎপরতাকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আগ্রাসনকারীর হামলার পর স্বীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের আর কতক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত ছিল?" জর্ডান সরকার নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তেহরানইরান ও জর্ডানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ইরান ও তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের চালানো সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইরান কোনরকম উস্কানি ছাড়াই প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালায়, যদিও জর্ডান শুরু থেকেই শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছিল।সাফাদির এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, “যে আগ্রাসনকারী শক্তি কোনো আরব কিংবা ইরানি সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা করে না, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ইরানের আর কতটা সময় অপচয় করা উচিত বলে মনে করেন জর্ডানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী?”আরাঘচি আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের ভূখণ্ডে এবং নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর চালানো প্রাথমিক মার্কিন হামলায় আরবের আকাশসীমা, স্থলভাগ এবং জলপথ ব্যবহার করা হয়েছিল। জর্ডানের নীরবতা ও পরোক্ষ সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জর্ডান কি সত্যিই জানে না তাদের ভূমি ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী ইরানি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে?উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যখন পারস্য উপসাগরে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা পরিচালনা করে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, বিশেষ করে ‘মুওয়াফফাক সালতি’ এবং ‘কিং হুসেন’ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে জর্ডানের আকাবা উপকূলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কেন্দ্র ‘ক্যাম্প টাইটান’-এও হামলা চালায় তেহরান।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালীকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে। জুন মাসে শত্রুতা অবসান ও আন্তর্জাতিক নৌপথ খোলার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও মার্কিন চুক্তিভঙ্গ ও বৈরী আচরণের কারণে শান্তি উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে। মুসলিম বিশ্বের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের পেছনে মার্কিন উপস্থিতি ও তাদের প্রতি মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতাই মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জর্ডানের বিরুদ্ধে মার্কিন আকাশসীমা ব্যবহারের তীব্র নিন্দা, সাফাদির বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন আরাঘচি