ভিয়েনায় জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর নিজ দেশের আত্মরক্ষামূলক সামরিক তৎপরতাকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আগ্রাসনকারীর হামলার পর স্বীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের আর কতক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত ছিল?"
ইরান ও জর্ডানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ইরান ও তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের চালানো সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান।
সাফাদির এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, “যে আগ্রাসনকারী শক্তি কোনো আরব কিংবা ইরানি সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা করে না, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ইরানের আর কতটা সময় অপচয় করা উচিত বলে মনে করেন জর্ডানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী?”
আরাঘচি আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের ভূখণ্ডে এবং নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর চালানো প্রাথমিক মার্কিন হামলায় আরবের আকাশসীমা, স্থলভাগ এবং জলপথ ব্যবহার করা হয়েছিল। জর্ডানের নীরবতা ও পরোক্ষ সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জর্ডান কি সত্যিই জানে না তাদের ভূমি ব্যবহার করেই মার্কিন বাহিনী ইরানি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে?
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যখন পারস্য উপসাগরে ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালীকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে।
মতামত