ভারতে বাঙালি মুসলিম ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি আহ্বান
ভারতে বাঙালি মুসলিম, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও দলিতসহ অনুন্নত জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং পুলিশি সহিংসতা বন্ধে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কমিটি (CERD) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণামূলক অপরাধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সমাধান করা জরুরি।জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কমিটি (সিইআরডি) এক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, ভারতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং দলিত জনগোষ্ঠীর ওপর বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। জেনেভা ভিত্তিক ১৮ সদস্যের এই স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ কমিটি নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্তদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক অবিন্যস্ত নাগরিকও রয়েছেন।কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, মোদি শাসিত ভারতে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষমূলক সহিংসতা, পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি আটক, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—এসব গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।ভারতে সহস্রাব্দ প্রাচীন হিন্দু জাতিভেদ প্রথা আজও সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা এবং সম্পদের অধিকার নির্ধারণ করে। মোদি সরকারের আমলে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে এই বিভাজন আরও উগ্র রূপ ধারণ করেছে। সিইআরডি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, প্রবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিতে তল্লাশি ও পরিচয় পরীক্ষার নামে মানুষকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য মানুষদের বলপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং নির্বাসনের মতো পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ভারত সরকারকে অনতিব্লিমে বাঙালি মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য, বৈষম্য এবং ঘৃণামূলক অপরাধ বন্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের পর এই প্রথম ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি জাতিসংঘের এই কমিটির পর্যালোচনায় মুখোমুখি হয়। ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও সিইআরডির নির্দেশনাবলি সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়, তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই উন্মোচন চরম ভাবমূর্তি সংকটের সৃষ্টি করেছে।