দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও চরম অর্থসংকটে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে ত্রাণ কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ায় দেশটির প্রায় ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লক্ষ) মানুষ এখন তীব্র অনাহারের মুখে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ না করলে পুরো দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (OCHA) ইয়েমেন শাখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'X'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির ২২.৩ মিলিয়ন মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইয়েমেন বর্তমানে এক "সংকটময় সন্ধিক্ষণে" দাঁড়িয়ে আছে। যদি অবিলম্বে অর্থায়ন নিশ্চিত না করা হয়, তবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। এর ফলে দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে। ওচা-র তথ্যমতে, ইয়েমেনের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে হয় সম্পূর্ণ বন্ধ, অথবা আংশিকভাবে সচল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে অসম্ভব করে তুলেছে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের 'হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্স প্ল্যান' বা মানবিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইয়েমেনে এই মুহূর্তে ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল প্রয়োজন। ওচা জানিয়েছে, এই অর্থ সংগ্রহ করা না গেলে ইয়েমেনের নিরপরাধ শিশুদের অপুষ্টি এবং সাধারণ মানুষের অনাহারজনিত মৃত্যু ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও চরম অর্থসংকটে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে ত্রাণ কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ায় দেশটির প্রায় ১৮ মিলিয়ন (১ কোটি ৮০ লক্ষ) মানুষ এখন তীব্র অনাহারের মুখে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ না করলে পুরো দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (OCHA) ইয়েমেন শাখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'X'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির ২২.৩ মিলিয়ন মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইয়েমেন বর্তমানে এক "সংকটময় সন্ধিক্ষণে" দাঁড়িয়ে আছে। যদি অবিলম্বে অর্থায়ন নিশ্চিত না করা হয়, তবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। এর ফলে দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে। ওচা-র তথ্যমতে, ইয়েমেনের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে হয় সম্পূর্ণ বন্ধ, অথবা আংশিকভাবে সচল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে অসম্ভব করে তুলেছে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের 'হিউম্যানিটারিয়ান রেসপন্স প্ল্যান' বা মানবিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইয়েমেনে এই মুহূর্তে ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল প্রয়োজন। ওচা জানিয়েছে, এই অর্থ সংগ্রহ করা না গেলে ইয়েমেনের নিরপরাধ শিশুদের অপুষ্টি এবং সাধারণ মানুষের অনাহারজনিত মৃত্যু ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আপনার মতামত লিখুন