দীর্ঘ ৪১ দিনের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হলো পবিত্র মক্কার পর ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদ-আল-আকসা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘ ৫ সপ্তাহ ধরে সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি জুমার নামাজ আদায় করতে হারাম-আল-শরীফে সমবেত হন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে মসিজদ-আল-আকসা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি প্রশাসন। দীর্ঘ ৫ সপ্তাহ বা ৪১ দিন পর আজই প্রথম সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মসজিদের দুয়ার উন্মুক্ত করা হলো। এই দীর্ঘ সময়কালে কেবল মসজিদের কর্মচারী এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কর্মীরা ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পেতেন।শুক্রবার সকাল থেকেই পূর্ব জেরুজালেমের অলিগলি এবং ঐতিহাসিক 'ওল্ড সিটি'র প্রাচীন পথে মুসল্লিদের ভিড় জমতে শুরু করে। ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকায় অসংখ্য চেকপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া বসিয়ে তল্লাশি চালালেও সাধারণ মানুষের জোয়ার থামানো যায়নি। জুমার নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই মসজিদের মূল প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়।উল্লেখ্য যে, এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার ফলে ১৯৬৭ সালের পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত রমজানের তারাবিহ, গুরুত্বপূর্ণ জুমাতুল বিদা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় সাধারণ ফিলিস্তিনিরা আদায় করতে পারেননি। এর আগে অনেক মুসল্লি মসজিদের পাশে রাস্তা বা ছোট মসজিদে নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল। তবে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য আল-আকসায় প্রবেশের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রেখেছে তেল আবিব। ফিলিস্তিনিদের কাছে ৪১ দিন পর এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি তাদের ধর্মীয় অধিকার ও প্রতিরোধের বড় বিজয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।