পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের অন্নদাতা কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের সূচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের সমৃদ্ধি কৃষকের সচ্ছলতার ওপর নির্ভরশীল এবং এই লক্ষ্যেই সরকার ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের লক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের প্রি-পাইলটিং উদ্বোধন করা হয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হয়ে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পহেলা বৈশাখ আজ একটি বৃহৎ সামাজিক উৎসবে রূপ নিলেও এর মূল শিকড় প্রোথিত কৃষিকাজে। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা আজ এই বিশেষ দিনটিকে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের জন্য বেছে নিয়েছি।" তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এ দেশের কৃষক যদি ভালো ও সুখে থাকে, তবেই সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কৃষিপণ্যের সঠিক সংরক্ষণের জন্য সারাদেশে অত্যাধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।"আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি, সার, বীজ এবং কৃষি ঋণ সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করতে পারবেন। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই সরকার জনগণের সরকার। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন।"প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের এই সফল সূচনা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।