শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মিলাদুন্নবী পালন ইসলামভিত্তিক নয়, খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণ: সতর্কবার্তা শায়খ আস-সুদাইসের

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী বা ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকে বিদআ'ত (দ্বীনে নতুন উদ্ভাবন) হিসেবে আখ্যায়িত করে তা থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের (কাবার) সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ মক্কা মুকাররমায় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি বলেন, এই ধরনের উদযাপনের ভিত্তি কুরআন বা সুন্নাহয় নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.), তাঁর সাহাবি কিংবা খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে কখনো এ জাতীয় অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়নি।কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের আহ্বান'মিলাদ উদযাপনের বিধান সংক্রান্ত একটি স্পষ্টীকরণ' শীর্ষক এক বিশেষ নীতিবিষয়ক আলোচনায় শায়খ আস-সুদাইস বলেন, মুসলিমদের দায়িত্ব হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট হেদায়েত ও সুন্নাহ হুবহু অনুসরণ করা এবং ধর্মে নতুন কোনো কিছু সংযোজন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার নির্দেশনামূলক আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলুল্লাহর আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।"ইমাম আস-সুদাইস রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুপরিচিত হাদিসও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে প্রিয় নবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন: "তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো। কারণ প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআ'ত এবং প্রতিটি বিদআ'তই পথভ্রষ্টতা।" তিনি আরও একটি হাদিস উদ্ধৃত করেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহকে কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরো। তা দাঁত দিয়ে শক্ত করে কামড়ে ধরে থাকো এবং দ্বীনের ভেতর নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে সতর্ক থাকো।"সালাফ ও প্রাচীন ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গিইসলামের প্রারম্ভিক যুগের মহান সাহাবি ও ফকিহদের অবস্থান তুলে ধরে শায়খ আস-সুদাইস বিশিষ্ট সাহাবি প্রখ্যাত তাফসিরকারক আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি স্মরণ করিয়ে দেন: "তোমরা অনুসরণ করো, নতুন কিছু উদ্ভাবন কোরো না; কারণ তোমাদের জন্য সুন্নাহই যথেষ্ট। পূর্বসূরিদের পুরোনো পথটি শক্তভাবে ধরে রাখো, সেটাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।" এছাড়া তিনি আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক বাণী উদ্ধৃত করেন: "প্রতিটি বিদআ'তই পথভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ সেটাকে ভালো বা সুন্দর মনে করুক না কেন।"পরবর্তী যুগের বিশ্বখ্যাত আলেম শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (র.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই, এমন কোনো সময় বা মাসকে (যেমন রবিউল আউয়াল মাস) যদি দ্বীনি মওসুম বা 'মিলাদুন্নবী' হিসেবে পালন করা হয়, তবে তা একটি সুস্পষ্ট বিদআ'ত। আমাদের নেককার পূর্বসূরিরা (সালাফে সালেহিন) কখনো তা করেননি। মিলাদের নামে সমাবেশের মধ্যে কোনো দ্বীনি কল্যাণ বা সওয়াব নেই, বরং এতে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় বিশেষ করে খ্রিস্টানদের ক্রিসমাস উদযাপনের সাদৃশ্য বা অন্ধ অনুকরণ বিদ্যমান।"বর্তমান মিলাদ মাহফিলের সামাজিক ও দ্বীনি ক্ষতিকর দিকরবিউল আউয়াল মাসে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাবার ইমাম। তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের সমাবেশগুলোতে গান-বাজনা, যথেচ্ছ খাওয়া-দাওয়া, অপ্রয়োজনীয় অপচয় এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মতো অনৈসলামিক সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে।ইমাম স্পষ্ট করে বলেন, যারা এই উদযাপনে অংশ নেন, তারা হয়তো মনে করেন তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা এমন কিছু রীতিনীতি পালন করছেন যা স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো নির্দেশ দেননি বা অনুমোদন করেননি। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একমাত্র সঠিক ও গ্রহণীয় পন্থা হলো তাঁর সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুগমন। কুরআনের ভাষায়: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।"মুসলিম বিশ্বের প্রতি বার্তাবক্তৃতার সমাপনীতে বিশ্ব মুসলিমদের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে শায়খ আস-সুদাইস বলেন, "নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। এসব দ্বীনি বিদআ'ত ও ভ্রান্ত পথ ত্যাগ করুন। আপনার প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন। মনে রাখবেন, ইসলামের সূচনা হয়েছিল এক একাকী ও অপরিচিত (গরিবা) অবস্থায় এবং অচিরেই তা আবার আগের সেই অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং শুভসংবাদ সেই একাকী সত্যপন্থীদের জন্য, যারা সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকে।"

মিলাদুন্নবী পালন ইসলামভিত্তিক নয়, খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণ: সতর্কবার্তা শায়খ আস-সুদাইসের