বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদ ও অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যের গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির।

বিদায় হজের শিক্ষা অনুসরণে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির



বিদায় হজের শিক্ষা অনুসরণে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজের মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ইনসাফ, সুশাসন ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরির জাতীয় উদযাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য গৃহীত কল্যাণমুখী নানা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজকের বিশ্বেও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভেদ ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতে যে কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা দেশ দেখেছে, তা যেন আর কখনও ফিরে না আসে। ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মহানবী (সা.) অমুসলিমদের সমন্বয়ে যেভাবে পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সমাজ গঠন করেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য বড় দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন।

ইসলামি সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে দেশের সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সরকারিভাবে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগেই দেশের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়কে এই সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে।

তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও নারী-শিশু নির্যাতন দূরীকরণে আলেম-ওলামাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ইসলামি চিন্তাবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘সিরাত স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ‘আল কুরআনুল করিম এনসাইক্লোপিডিয়া’র একটি সেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলাদুন্নবী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


বিদায় হজের শিক্ষা অনুসরণে ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজের মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ইনসাফ, সুশাসন ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরির জাতীয় উদযাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য গৃহীত কল্যাণমুখী নানা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজকের বিশ্বেও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভেদ ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতে যে কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা দেশ দেখেছে, তা যেন আর কখনও ফিরে না আসে। ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মহানবী (সা.) অমুসলিমদের সমন্বয়ে যেভাবে পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সমাজ গঠন করেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য বড় দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন।

ইসলামি সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে দেশের সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সরকারিভাবে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগেই দেশের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়কে এই সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে।

তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও নারী-শিশু নির্যাতন দূরীকরণে আলেম-ওলামাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ইসলামি চিন্তাবিদরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘সিরাত স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ‘আল কুরআনুল করিম এনসাইক্লোপিডিয়া’র একটি সেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ