দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এই ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায় অর্জিত এই সমঝোতাকে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে দুই সপ্তাহের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির জন্য তিনি 'হরমুজ প্রণালী' অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং সমঝোতাটি দ্বিপাক্ষিক হওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান সরকারও এই ১৫ দিনের বিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের মাটিতে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।এই সমঝোতা ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জোয়ার বইছে:জার্মানি: চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট রোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সহায়ক হবে।" তিনি মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।চীন: বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, চীন শুরু থেকেই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তিনি পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে উচ্চকিত প্রশংসা করেন।ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া ক্যালাস এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিন পৃথক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এটি দীর্ঘস্থায়ী কূটনীতির জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।অন্যান্য দেশ: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ভারত এবং জাপানও এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানাই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।যুদ্ধবিরতির খবর প্রচার হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচ জানান, এই সমঝোতা বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।এই ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী আলোচনার দিকে।