বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

কুরআন পড়েই ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত; এখন জাপানে হালাল খাবার পরিবেশন করছেন কেনেহারা

কুরআনের আলোয় জাপানি তরুণের জীবন বদল: এক তুর্কি বন্ধুর অনুপ্রেরণায় ইসলাম গ্রহণ



কুরআনের আলোয় জাপানি তরুণের জীবন বদল: এক তুর্কি বন্ধুর অনুপ্রেরণায় ইসলাম গ্রহণ

টেলিভিশনের পর্দায় ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠা ৩১ বছর বয়সী জাপানি তরুণ কাজুকি কানেহারা এখন পুরোদস্তুর মুসলিম। এক তুর্কি বন্ধুর অকৃত্রিম ব্যবহার এবং পবিত্র কুরআনের বাণীর গভীরতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি সাত বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জাপানের কিয়োটোতে ঐতিহ্যবাহী জাপানি খাবার দিয়ে একটি হালাল রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

কাজুকি কানেহারার ইসলামের পথে যাত্রা শুরু হয় ১৯ বছর বয়সে, যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে প্রথমবারের মতো মুসলিম বন্ধুদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "জাপানে থাকাকালীন মিডিয়ার কারণে ইসলাম সম্পর্কে আমার মনে এক ধরণের ভীতি ছিল। কিন্তু জার্মানিতে মুসলিম বন্ধুদের নম্রতা ও উদারতা দেখে আমার সেই ভুল ভেঙে যায়।"

তার এই রূপান্তরের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন তার তুর্কি বন্ধু ইসমাইল। কানেহারা জানান, ইসমাইল কেবল বন্ধু ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কানেহারা কোনো ভুল করলেও ইসমাইল তাকে পরম ধৈর্য ও স্নেহের সাথে ইসলামের শিক্ষা দিতেন। পরবর্তীতে ইসমাইলের মাধ্যমেই তিনি তুরস্কের ওসমানিয়া শহরে রামাজান নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির পরিবারের সান্নিধ্য পান। তুর্কি মুসলিমদের এই অতুলনীয় আতিথেয়তা কানেহারার হৃদয়ে দাগ কাটে। তিনি বুঝতে পারেন, এই আদর্শ ও নৈতিকতার উৎস তাদের ধর্ম।

জাপানে ফিরে তিনি নিবিড়ভাবে কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। কানেহারার ভাষায়, "যে মুহূর্তে আমি কুরআন পড়া শুরু করলাম, আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেতরে সবকিছু দ্রুত বদলে যেতে লাগল। আমি বুঝতে পারলাম আল্লাহই সত্য। কুরআন সর্বকালের সবচেয়ে নিখুঁত ও সুন্দর কিতাব।" এরপর তিনি পুনরায় তুরস্কের ওসমানিয়া গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন 'সুলেমান'।

সুলেমান জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তার জীবন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, জাপানি সংস্কৃতির বড়দের সম্মান করার প্রথার সাথে ইসলামের অনেক মিল রয়েছে। তবে পরকালে নিজ কর্মের জবাবদিহিতার বিষয়টি তাকে বেশি নাড়া দিয়েছে। সুলেমানের অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে তার স্ত্রীও তুরস্কের উশাক শহরে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে ইসলামী আদর্শে বড় করে তুলছেন। যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের প্রতি সুলেমানের পরামর্শ— "আগে কুরআন পড়ুন, এটিই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে।"

বিষয় : জাপান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


কুরআনের আলোয় জাপানি তরুণের জীবন বদল: এক তুর্কি বন্ধুর অনুপ্রেরণায় ইসলাম গ্রহণ

প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

featured Image

টেলিভিশনের পর্দায় ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠা ৩১ বছর বয়সী জাপানি তরুণ কাজুকি কানেহারা এখন পুরোদস্তুর মুসলিম। এক তুর্কি বন্ধুর অকৃত্রিম ব্যবহার এবং পবিত্র কুরআনের বাণীর গভীরতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি সাত বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জাপানের কিয়োটোতে ঐতিহ্যবাহী জাপানি খাবার দিয়ে একটি হালাল রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

কাজুকি কানেহারার ইসলামের পথে যাত্রা শুরু হয় ১৯ বছর বয়সে, যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে প্রথমবারের মতো মুসলিম বন্ধুদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "জাপানে থাকাকালীন মিডিয়ার কারণে ইসলাম সম্পর্কে আমার মনে এক ধরণের ভীতি ছিল। কিন্তু জার্মানিতে মুসলিম বন্ধুদের নম্রতা ও উদারতা দেখে আমার সেই ভুল ভেঙে যায়।"

তার এই রূপান্তরের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন তার তুর্কি বন্ধু ইসমাইল। কানেহারা জানান, ইসমাইল কেবল বন্ধু ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কানেহারা কোনো ভুল করলেও ইসমাইল তাকে পরম ধৈর্য ও স্নেহের সাথে ইসলামের শিক্ষা দিতেন। পরবর্তীতে ইসমাইলের মাধ্যমেই তিনি তুরস্কের ওসমানিয়া শহরে রামাজান নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির পরিবারের সান্নিধ্য পান। তুর্কি মুসলিমদের এই অতুলনীয় আতিথেয়তা কানেহারার হৃদয়ে দাগ কাটে। তিনি বুঝতে পারেন, এই আদর্শ ও নৈতিকতার উৎস তাদের ধর্ম।

জাপানে ফিরে তিনি নিবিড়ভাবে কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেন। কানেহারার ভাষায়, "যে মুহূর্তে আমি কুরআন পড়া শুরু করলাম, আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেতরে সবকিছু দ্রুত বদলে যেতে লাগল। আমি বুঝতে পারলাম আল্লাহই সত্য। কুরআন সর্বকালের সবচেয়ে নিখুঁত ও সুন্দর কিতাব।" এরপর তিনি পুনরায় তুরস্কের ওসমানিয়া গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন 'সুলেমান'।

সুলেমান জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তার জীবন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, জাপানি সংস্কৃতির বড়দের সম্মান করার প্রথার সাথে ইসলামের অনেক মিল রয়েছে। তবে পরকালে নিজ কর্মের জবাবদিহিতার বিষয়টি তাকে বেশি নাড়া দিয়েছে। সুলেমানের অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে তার স্ত্রীও তুরস্কের উশাক শহরে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে ইসলামী আদর্শে বড় করে তুলছেন। যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের প্রতি সুলেমানের পরামর্শ— "আগে কুরআন পড়ুন, এটিই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত