মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার কুরআন শরিফ পরম মমতায় মেরামত করছেন ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবক রাফাত জাবের

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুসুল্লিদের হাতে: গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কুরআন শরীফ মেরামতে অনন্য উদ্যোগ



ধ্বংসস্তূপ থেকে মুসুল্লিদের হাতে: গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কুরআন শরীফ মেরামতে অনন্য উদ্যোগ

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পবিত্র কুরআন শরিফগুলো সংগ্রহ করে তা পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছেন বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি রাফাত জাবের। ইসরায়েলি বিমান হামলায় শত শত মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর বিপন্ন ঐশী বাণী রক্ষায় তিনি একাই শুরু করেছেন এই বিশেষ "কুরআন মেরামত কেন্দ্র"। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই কেবল ধর্মীয় আবেগ আর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন।

গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মাঝে কাঠ আর পলিথিনের তৈরি ছোট্ট একটি তাঁবু। বাইরে বোমায় বিধ্বস্ত দালানকোঠার কঙ্কাল, আর ভেতরে সারি সারি সাজানো পবিত্র কুরআন। এটি কোনো সাধারণ লাইব্রেরি নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পবিত্র গ্রন্থ সংরক্ষণের এক অনন্য আঙিনা। এখানে বসে নিপুণ হাতে কুরআনের পাতা জোড়া দিচ্ছেন ফিলিস্তিনি বৃদ্ধ রাফাত জাবর।

গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দীর্ঘ যুদ্ধের ভয়াবহতায় ১,০৫০টি মসজিদ পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৯১টি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মসজিদের ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক হাজার কুরআন শরিফ ধুলোবালি আর পোড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে ছিল। রাফাত জাবর ও তার সহযোগীরা সেসব কুরআন সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে মেরামতের কাজ করছেন।

রাফাত জাবের সংবাদ সংস্থাকে জানান, অবরোধের কারণে গাজায় নতুন কুরআন শরিফ ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, মসজিদে হামলার কারণে মুমিনদের কাছে নিত্য পাঠের জন্য পর্যাপ্ত কুরআন নেই। তিনি বলেন, "আল্লাহর কালাম এভাবে ছিঁড়ে পড়ে থাকবে, তা আমি সহ্য করতে পারিনি। তাই নিজস্ব অর্থায়নে আর সাধারণ কিছু কাগজ-আঠা দিয়ে এই মেরামত কাজ শুরু করেছি।"

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কুরআন নিয়ে রাফাতের তাঁবুতে ভিড় করেন। তবে সীমিত সামর্থ্যের কারণে তিনি দিনে বড়জোর ৮টি কুরআন মেরামত করতে পারেন। যুদ্ধের কারণে গাজায় এখন উন্নত মানের কাগজ, শক্ত কার্ডবোর্ড বা বাইন্ডিং আঠার তীব্র সংকট। তবুও রাফাত পিছু হটছেন না।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে অস্ত্রবিরতি চললেও ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজার জীবনযাত্রা এখনো থমকে আছে। ত্রাণ সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি থাকায় রাফাত জাবেরকে প্রতিটি পাতা পরিষ্কার করতে আর বাঁধাই করতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি বড় পরিসরের কর্মশালার, যেখানে আরো বেশি মানুষ এই পবিত্র কাজে যুক্ত হতে পারবে।

রাফাত জাবেরের এই উদ্যোগ কেবল বই মেরামতের কাজ নয়, বরং এটি গাজাবাসীর আধ্যাত্মিক শক্তি ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক শক্তিশালী প্রতীক।

বিষয় : গাজা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


ধ্বংসস্তূপ থেকে মুসুল্লিদের হাতে: গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত পবিত্র কুরআন শরীফ মেরামতে অনন্য উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পবিত্র কুরআন শরিফগুলো সংগ্রহ করে তা পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছেন বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি রাফাত জাবের। ইসরায়েলি বিমান হামলায় শত শত মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর বিপন্ন ঐশী বাণী রক্ষায় তিনি একাই শুরু করেছেন এই বিশেষ "কুরআন মেরামত কেন্দ্র"। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই কেবল ধর্মীয় আবেগ আর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন।

গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মাঝে কাঠ আর পলিথিনের তৈরি ছোট্ট একটি তাঁবু। বাইরে বোমায় বিধ্বস্ত দালানকোঠার কঙ্কাল, আর ভেতরে সারি সারি সাজানো পবিত্র কুরআন। এটি কোনো সাধারণ লাইব্রেরি নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পবিত্র গ্রন্থ সংরক্ষণের এক অনন্য আঙিনা। এখানে বসে নিপুণ হাতে কুরআনের পাতা জোড়া দিচ্ছেন ফিলিস্তিনি বৃদ্ধ রাফাত জাবর।

গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দীর্ঘ যুদ্ধের ভয়াবহতায় ১,০৫০টি মসজিদ পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৯১টি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মসজিদের ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক হাজার কুরআন শরিফ ধুলোবালি আর পোড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে ছিল। রাফাত জাবর ও তার সহযোগীরা সেসব কুরআন সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে মেরামতের কাজ করছেন।

রাফাত জাবের সংবাদ সংস্থাকে জানান, অবরোধের কারণে গাজায় নতুন কুরআন শরিফ ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, মসজিদে হামলার কারণে মুমিনদের কাছে নিত্য পাঠের জন্য পর্যাপ্ত কুরআন নেই। তিনি বলেন, "আল্লাহর কালাম এভাবে ছিঁড়ে পড়ে থাকবে, তা আমি সহ্য করতে পারিনি। তাই নিজস্ব অর্থায়নে আর সাধারণ কিছু কাগজ-আঠা দিয়ে এই মেরামত কাজ শুরু করেছি।"

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কুরআন নিয়ে রাফাতের তাঁবুতে ভিড় করেন। তবে সীমিত সামর্থ্যের কারণে তিনি দিনে বড়জোর ৮টি কুরআন মেরামত করতে পারেন। যুদ্ধের কারণে গাজায় এখন উন্নত মানের কাগজ, শক্ত কার্ডবোর্ড বা বাইন্ডিং আঠার তীব্র সংকট। তবুও রাফাত পিছু হটছেন না।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে অস্ত্রবিরতি চললেও ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজার জীবনযাত্রা এখনো থমকে আছে। ত্রাণ সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি থাকায় রাফাত জাবেরকে প্রতিটি পাতা পরিষ্কার করতে আর বাঁধাই করতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি বড় পরিসরের কর্মশালার, যেখানে আরো বেশি মানুষ এই পবিত্র কাজে যুক্ত হতে পারবে।

রাফাত জাবেরের এই উদ্যোগ কেবল বই মেরামতের কাজ নয়, বরং এটি গাজাবাসীর আধ্যাত্মিক শক্তি ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক শক্তিশালী প্রতীক।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত