গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি আগ্রাসনের এক মর্মান্তিক প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ বছরের শিশু কামার মুহাম্মদ হাজ্জি। যুদ্ধের ভয়াবহ হামলায় শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া এই শিশুটি এখন কেবল দুচোখে নতুন করে হাঁটার স্বপ্ন আঁকছে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে নিজ দেশে ধুঁকতে থাকা কামের এবং তার পরিবারের আকুতি এখন একটাই—সীমান্ত খুলে দেওয়া হোক, যাতে বিদেশের কোনো হাসপাতালে গিয়ে সে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।গাজার দক্ষিণ অঞ্চলের মাগরাকা এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাওয়ার সময় ইজরায়েলি হামলার শিকার হয় ছোট্ট কামার। সেই হামলায় একটি জ্বলন্ত স্প্লিন্টার (বোমার টুকরো) তার কোমরের হাড়ের ভেতরে ঢুকে যায়। এর ফলে তার শরীরের নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে পড়ে। বর্তমানে নুসরাত শরণার্থী শিবিরে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে তার।কামারের মা আহলাম হাজ্জি সেই বিভীষিকাময় সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, "২০২৩ সালের অক্টোবরে যখন হামলা শুরু হলো, আমরা জীবন বাঁচাতে ঘর থেকে দৌড়াচ্ছিলাম। চারপাশ থেকে তখন আগুনের গোলার মতো স্প্লিন্টার পড়ছিল। আমি কামারকে কোলে নিয়ে ছুটছিলাম, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। একটি টুকরো ওর কোমরে ঢুকে গেল। সেই থেকে আমার মেয়েটির হাসি হারিয়ে গেছে।"গাজার বর্তমান ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কামারের শরীরে আটকে থাকা সেই স্প্লিন্টারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। আহলাম অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, কামার যখন তার বয়সী অন্য শিশুদের দৌড়াতে বা ফুটবল খেলতে দেখে, সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সে মনে মনে ভাবে সেও হয়তো দৌড়াচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সে এক চুল নড়ার ক্ষমতাও হারিয়েছে।গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান (১৩ এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, গত ৬ মাসে মাত্র ৪২০ জন রোগীকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিপরীতে, প্রায় ২১,৫০০ জন গুরুতর অসুস্থ ও আহত রোগী এখনো অবরুদ্ধ গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে। ইজরায়েলি সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় কামারের মতো হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।