শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

৭৯৯ ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল, ৮১ জনই শিশু

ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় প্রচারণা ও বন্দি বিষয়ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৭৯৯ জন ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ আটকে রেখেছে। তাদের মধ্যে ৮১ জন শিশু, ৯৯ জন সাবেক বন্দি এবং ১০ জন নারী রয়েছেন। বুধবার ‘শহীদের মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের ভাগ্য উন্মোচন বিষয়ক ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রচারণা’ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে শহীদের মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি তুলে ধরে ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রচারণা ও বন্দি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো।বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ আটকে রাখার ঘটনা ইসরায়েলি লঙ্ঘনের অন্যতম গুরুতর বিষয়। এর ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ভাগ্য সম্পর্কে জানতে, শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এবং ধর্মীয় ও মানবিক মর্যাদা অনুযায়ী দাফন করতে পারছে না।ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হিব্রু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল প্রায় ১,৭০০ শহীদের মরদেহ আটক করে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পরিচয় শনাক্ত হওয়া শহীদের সংখ্যা ৭৯৯ জন।এই ৭৯৯ জনের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জেনিন শহরের ফিলিস্তিনি কমান্ডার ফাথি খাজেমকে। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি সেনারা তার বাড়ির ভেতরে তাকে হত্যা করার পর তার মরদেহ জব্দ করে।ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৭৯৯ শহীদের মধ্যে ৮১ জন শিশু, ৯৯ জন বন্দি এবং ১০ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া ২৫৬ জন শহীদের মরদেহ ‘নম্বরযুক্ত কবরস্থানে’ রাখা হয়েছে বলে পৃথকভাবে জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, এই পরিসংখ্যান চূড়ান্ত নয়। বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় হতাহত ও নিখোঁজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেক এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নিহত ও নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় নথিভুক্ত করা কঠিন হচ্ছে।ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, মরদেহ আটকে রাখার ফলে শুধু নিহত ব্যক্তির পরিবারই নয়, পুরো সমাজ দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে থাকে। একজন স্বজনের মৃত্যুর পর পরিবারের স্বাভাবিক শোক পালন, শেষ বিদায় এবং দাফনের মতো মৌলিক মানবিক অধিকারও এতে বাধাগ্রস্ত হয়।ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় প্রচারণা ও বন্দি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, নিখোঁজ ও শহীদের মরদেহের বিষয়টি শুধু একটি মানবিক সমস্যা নয়; এটি পরিবারগুলোর অধিকার, মর্যাদা এবং সত্য জানার অধিকারের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।তারা আরও বলেছে, গাজা উপত্যকাসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিখোঁজ ও নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ, পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

৭৯৯ ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল, ৮১ জনই শিশু