ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এহসান এফরেস্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৩ মে সকালে কেরেজ শহরের কিজিল হিসার কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং নেপাল জুড়ে বিস্তৃত এক রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় গোয়েন্দা তৎপরতার অবসান ঘটল এই দণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে।
ইরানের ইসফাহানে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী (মতভেদে ৩৬) এহসান এফরেস্তে ছিলেন একজন কৃতি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, যিনি পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। তবে প্রযুক্তির এই জ্ঞান তিনি ব্যবহার করেছিলেন নিজ দেশের সামরিক গোপনীয়তা পাচারে। ইরানি বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে এক পেশাদার এজেন্টের দীর্ঘ পরিক্রমা।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, তুরস্ক ভ্রমণের সময় মোসাদের সাথে এফরেস্তের প্রথম যোগাযোগ হয়। এফরেস্তে তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, সেখানে তাকে কড়া ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার পারিবারিক ও কর্মজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ১,০০০ ইউরো দিয়ে তার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে মোসাদ। এরপর বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ এবং ইমেইলের মাধ্যমে শুরু হয় নিয়মিত যোগাযোগ।
ইরানে ফেরার পর এফরেস্তে কয়েক মাসব্যাপী অনলাইন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল গোপন ছবি তোলা, সংকেত লিপি বা এনক্রিপশন, গোপন লোকেশন পাঠানো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার। নিজেকে আড়াল করতে তিনি পেশায় একজন ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন, যদিও পর্দার আড়ালে তিনি বিভিন্ন সামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
মোসাদের দিকনির্দেশনায় তিনি একটি সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ পান। সেখানে ঢোকার পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা, অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তথ্য মোসাদকে সরবরাহ করতে থাকেন। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, মোসাদের সাথে তার ৩০০টিরও বেশি গোপন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এফরেস্তেকে তুরস্কে তলব করে মোসাদ। সেখান থেকে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে—এমন অজুহাতে একটি বিশেষ গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখরা শহরের সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেখে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগে থেকেই এফরেস্তের ওপর নজর রাখছিল। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ অর্থের লেনদেন বেড়ে যাওয়া, ইব্রীয় (হিব্রু) ভাষা শেখার চেষ্টা এবং বারবার বিদেশ ভ্রমণ কর্মকর্তাদের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে নেপাল থেকে ফেরার পর ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে তেহরানের বিপ্লবী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেছে, তবে ইরান সরকার তার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশ করে সেই দাবি নাকচ করে দেয়। উচ্চ আদালতে আপিল খারিজ হওয়ার পর গত কাল তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এহসান এফরেস্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৩ মে সকালে কেরেজ শহরের কিজিল হিসার কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং নেপাল জুড়ে বিস্তৃত এক রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় গোয়েন্দা তৎপরতার অবসান ঘটল এই দণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে।
ইরানের ইসফাহানে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী (মতভেদে ৩৬) এহসান এফরেস্তে ছিলেন একজন কৃতি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, যিনি পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। তবে প্রযুক্তির এই জ্ঞান তিনি ব্যবহার করেছিলেন নিজ দেশের সামরিক গোপনীয়তা পাচারে। ইরানি বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে এক পেশাদার এজেন্টের দীর্ঘ পরিক্রমা।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, তুরস্ক ভ্রমণের সময় মোসাদের সাথে এফরেস্তের প্রথম যোগাযোগ হয়। এফরেস্তে তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, সেখানে তাকে কড়া ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার পারিবারিক ও কর্মজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ১,০০০ ইউরো দিয়ে তার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে মোসাদ। এরপর বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ এবং ইমেইলের মাধ্যমে শুরু হয় নিয়মিত যোগাযোগ।
ইরানে ফেরার পর এফরেস্তে কয়েক মাসব্যাপী অনলাইন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল গোপন ছবি তোলা, সংকেত লিপি বা এনক্রিপশন, গোপন লোকেশন পাঠানো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার। নিজেকে আড়াল করতে তিনি পেশায় একজন ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন, যদিও পর্দার আড়ালে তিনি বিভিন্ন সামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
মোসাদের দিকনির্দেশনায় তিনি একটি সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ পান। সেখানে ঢোকার পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা, অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তথ্য মোসাদকে সরবরাহ করতে থাকেন। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, মোসাদের সাথে তার ৩০০টিরও বেশি গোপন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এফরেস্তেকে তুরস্কে তলব করে মোসাদ। সেখান থেকে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে—এমন অজুহাতে একটি বিশেষ গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখরা শহরের সেফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রেখে সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগে থেকেই এফরেস্তের ওপর নজর রাখছিল। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ অর্থের লেনদেন বেড়ে যাওয়া, ইব্রীয় (হিব্রু) ভাষা শেখার চেষ্টা এবং বারবার বিদেশ ভ্রমণ কর্মকর্তাদের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে নেপাল থেকে ফেরার পর ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে তেহরানের বিপ্লবী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেছে, তবে ইরান সরকার তার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশ করে সেই দাবি নাকচ করে দেয়। উচ্চ আদালতে আপিল খারিজ হওয়ার পর গত কাল তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন