বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

স্কুল ছুটির পরপরই গেটের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষক নওশাদকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরপ্রদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে নওশাদ আহমেদ (৪০) নামে এক মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের গেটের সামনেই ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি তার ওপর হামলা চালায়। একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন ভারতের উত্তরপ্রদেশে দিন দিন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ও পেশাজীবীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজনোর জেলার অন্তর্গত নাজিবাবাদের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। তিনি স্থানীয় রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে স্কুলের ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন নওশাদ। তিনি স্কুলের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছামাত্রই ৩০ বছর বয়সী অভিযুক্ত গৌরব রাথি তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির তীব্রতায় একাধিক আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় প্রচণ্ড আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সহকর্মী শিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় করে নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঋষিকেশের ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (এআইআইএমএস)-এ স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নওশাদ আহমেদের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত গৌরব রাথি দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'অমর উজালা'র বরাতে পুলিশ জানায়, রাথি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানিয়েছে যে সে নওশাদকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি চালিয়েছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃত হিন্দুত্ববাদী তরুণ অভিযুক্ত নওশাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এ জড়িত থাকার মনগড়া অভিযোগ তোলে, যা উগ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানিয়েছেন, অভিযুক্ত গৌরব রাথি আত্মসমর্পণ করলেও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মূল কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নওশাদ শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জমি ও সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সাথেও যুক্ত ছিলেন। ফলে কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত বা আর্থিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এলাকার মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল কারণ কী, তা এখনো গ্রামবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়।

মৃত্যুকালে শিক্ষক নওশাদ আহমেদ তাঁর মা, দুই স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং অভিযুক্তের উত্থাপিত বিতর্কিত দাবি ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিফ উদঘাটনে আইনানুগ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : ধর্মীয় শিক্ষক মুসলিম নির্যাতন উত্তরপ্রদেশে

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উত্তরপ্রদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে নওশাদ আহমেদ (৪০) নামে এক মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের গেটের সামনেই ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি তার ওপর হামলা চালায়। একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন ভারতের উত্তরপ্রদেশে দিন দিন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ও পেশাজীবীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজনোর জেলার অন্তর্গত নাজিবাবাদের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। তিনি স্থানীয় রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে স্কুলের ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন নওশাদ। তিনি স্কুলের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছামাত্রই ৩০ বছর বয়সী অভিযুক্ত গৌরব রাথি তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির তীব্রতায় একাধিক আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় প্রচণ্ড আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সহকর্মী শিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় করে নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঋষিকেশের ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (এআইআইএমএস)-এ স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নওশাদ আহমেদের মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত গৌরব রাথি দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'অমর উজালা'র বরাতে পুলিশ জানায়, রাথি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানিয়েছে যে সে নওশাদকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি চালিয়েছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃত হিন্দুত্ববাদী তরুণ অভিযুক্ত নওশাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এ জড়িত থাকার মনগড়া অভিযোগ তোলে, যা উগ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানিয়েছেন, অভিযুক্ত গৌরব রাথি আত্মসমর্পণ করলেও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মূল কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নওশাদ শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জমি ও সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সাথেও যুক্ত ছিলেন। ফলে কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত বা আর্থিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এলাকার মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল কারণ কী, তা এখনো গ্রামবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়।

মৃত্যুকালে শিক্ষক নওশাদ আহমেদ তাঁর মা, দুই স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং অভিযুক্তের উত্থাপিত বিতর্কিত দাবি ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিফ উদঘাটনে আইনানুগ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ