শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মদিনার বাজেট হোটেলগুলোতে রান্নার সুব্যবস্থা না থাকায় হাজিদের দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই উদ্যোগ; বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওমরাহ প্যাকেজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাবার সুবিধা



বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওমরাহ প্যাকেজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাবার সুবিধা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের চারটি দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য প্যাকেজের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে খাবারের ব্যবস্থা রাখার নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত এবং মিসর থেকে আসা ওমরাহযাত্রীদের জন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই খাবারসহ প্যাকেজ প্রস্তাব করতে হবে।

মদিনা চেম্বার অব কমার্সের হজ ও ওমরাহ কমিটির প্রধান গাজী কুতুব জানান, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও জানান, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে সব দেশের তালিকা, খাবারের সর্বনিম্ন সংখ্যা, মান কিংবা নির্দিষ্ট মূল্যসীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত সার্কুলার জারি না করা হলেও এটি এখন ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যকার পরিচালন চুক্তির একটি অপরিহার্য শর্তে পরিণত হয়েছে।

কেন এই নতুন সিদ্ধান্ত?

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ওমরাহযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিজস্ব উদ্যোগে খাবার কিনে খেতেন। কিন্তু মদিনার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের অধিকাংশ বাজেট হোটেলে নিজস্ব রান্নাঘর কিংবা বাণিজ্যিক ফুড লাইসেন্স না থাকায় দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তেন। নতুন এই নিয়মের ফলে খাবার এখন আর ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়; বরং সরকারি পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা একটি চুক্তিভিত্তিক সেবায় পরিণত হলো।

গাজী কুতুব উল্লেখ করেন, প্রথম ধাপে যেসব দেশকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওমরাহযাত্রী মদিনায় আগমন করেন। খাবার অপচয় কমানো এবং জাতীয়তা ভেদে খাবারের মান বজায় রাখতে তিনি একটি ‘মদিনা ক্যাটারিং স্ট্যান্ডার্ড’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যার অধীনে তিন স্তরের সেবামূল্য, নির্দিষ্ট মেনু এবং প্রতিটি ওমরাহ পারমিটের সাথে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় খাবার সরবরাহের ভেরিফিকেশন যুক্ত থাকবে।

সৌদির বিশাল ক্যাটারিং বাজার ও ভিশন ২০৩০

সৌদি আরবের খাদ্যাভ্যাস ও ক্যাটারিং খাত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। গাজী কুতুবের মতে, বর্তমানে দেশটির ক্যাটারিং বাজারের আকার প্রায় ২৮.২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা ২৩,০০০ অনুমোদিত কোম্পানি ও সেন্ট্রাল কিচেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮.৭ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে সৌদির সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনের মূল্য ১০৪ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছাবে, যা দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে এক বড় অবদান রাখবে।

ওমরাহযাত্রীদের রেকর্ড উপস্থিতি

চলতি মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক ওমরাহযাত্রীর আগমন ঘটছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ (১৫ জিলহজ ১৪৪৭) থেকে ১৫ জুলাই ২০২৬ (৩০ মহররম ১৪৪৭) পর্যন্ত ভিসা নিয়ে আসা ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯,৩১,৫০০ জনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা মোট ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান (২,০০,০০০ যাত্রী), দ্বিতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়া (১,৭০,০০০ যাত্রী) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরাক (১,৩০,০০০ যাত্রী)। মোট আগমনকারী হাজিদের ৭৫% আকাশপথে এবং ২৫% স্থল ও সমুদ্রপথে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন।

বিষয় : সৌদি আরব ওমরাহ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশসহ ৪ দেশের ওমরাহ প্যাকেজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খাবার সুবিধা

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশসহ বিশ্বের চারটি দেশের ওমরাহযাত্রীদের জন্য প্যাকেজের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে খাবারের ব্যবস্থা রাখার নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত এবং মিসর থেকে আসা ওমরাহযাত্রীদের জন্য ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই খাবারসহ প্যাকেজ প্রস্তাব করতে হবে।

মদিনা চেম্বার অব কমার্সের হজ ও ওমরাহ কমিটির প্রধান গাজী কুতুব জানান, গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও জানান, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে সব দেশের তালিকা, খাবারের সর্বনিম্ন সংখ্যা, মান কিংবা নির্দিষ্ট মূল্যসীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত সার্কুলার জারি না করা হলেও এটি এখন ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যকার পরিচালন চুক্তির একটি অপরিহার্য শর্তে পরিণত হয়েছে।

কেন এই নতুন সিদ্ধান্ত?

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ওমরাহযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিজস্ব উদ্যোগে খাবার কিনে খেতেন। কিন্তু মদিনার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের অধিকাংশ বাজেট হোটেলে নিজস্ব রান্নাঘর কিংবা বাণিজ্যিক ফুড লাইসেন্স না থাকায় দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তেন। নতুন এই নিয়মের ফলে খাবার এখন আর ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়; বরং সরকারি পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা একটি চুক্তিভিত্তিক সেবায় পরিণত হলো।

গাজী কুতুব উল্লেখ করেন, প্রথম ধাপে যেসব দেশকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওমরাহযাত্রী মদিনায় আগমন করেন। খাবার অপচয় কমানো এবং জাতীয়তা ভেদে খাবারের মান বজায় রাখতে তিনি একটি ‘মদিনা ক্যাটারিং স্ট্যান্ডার্ড’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যার অধীনে তিন স্তরের সেবামূল্য, নির্দিষ্ট মেনু এবং প্রতিটি ওমরাহ পারমিটের সাথে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় খাবার সরবরাহের ভেরিফিকেশন যুক্ত থাকবে।

সৌদির বিশাল ক্যাটারিং বাজার ও ভিশন ২০৩০

সৌদি আরবের খাদ্যাভ্যাস ও ক্যাটারিং খাত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। গাজী কুতুবের মতে, বর্তমানে দেশটির ক্যাটারিং বাজারের আকার প্রায় ২৮.২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা ২৩,০০০ অনুমোদিত কোম্পানি ও সেন্ট্রাল কিচেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮.৭ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে সৌদির সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনের মূল্য ১০৪ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছাবে, যা দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে এক বড় অবদান রাখবে।

ওমরাহযাত্রীদের রেকর্ড উপস্থিতি

চলতি মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক ওমরাহযাত্রীর আগমন ঘটছে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ (১৫ জিলহজ ১৪৪৭) থেকে ১৫ জুলাই ২০২৬ (৩০ মহররম ১৪৪৭) পর্যন্ত ভিসা নিয়ে আসা ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯,৩১,৫০০ জনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা মোট ওমরাহযাত্রীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান (২,০০,০০০ যাত্রী), দ্বিতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়া (১,৭০,০০০ যাত্রী) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরাক (১,৩০,০০০ যাত্রী)। মোট আগমনকারী হাজিদের ৭৫% আকাশপথে এবং ২৫% স্থল ও সমুদ্রপথে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ