বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরা কন্নড় জেলার ভাটকলে গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রা চলাকালে ইসমাইল সুন্নি জামে মসজিদ ও তাজউস-সুন্নাহ আরবি মাদরাসায় হামলা; অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায় স্থানীয় মুসলিমদের বিক্ষোভ।

ভারতের কর্ণাটকে গণেশ শোভাযাত্রা থেকে মসজিদ ও মাদরাসায় পাথর নিক্ষেপ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের কর্ণাটকে গণেশ শোভাযাত্রা থেকে মসজিদ ও মাদরাসায় পাথর নিক্ষেপ

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উত্তরা কন্নড় জেলার স্পর্শকাতর শহর ভাটকলে গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় একদল লোক স্থানীয় একটি মসজিদ ও মাদরাসা ভবন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে ভাটকালের গুলমি রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালান্দ এলাকা থেকে শুরু হওয়া একটি সর্বজনীন গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রা গুলমি রেলওয়ে ব্রিজ অতিক্রম করে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। শোভাযাত্রার মধ্য থেকে অসাধু কিছু ব্যক্তি হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে অবস্থিত 'ইসমাইল সুন্নি জামিয়া মসজিদ' এবং এর নিচতলায় পরিচালিত 'তাজউস-সুন্নাহ আরবি মাদরাসা' লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে। এতে ইবাদতখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অন্তত দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলার পর স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই আব্দুল আলিম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ভাটকল টাউন থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অভিযোগ দায়েরের পরপরই স্থানীয় মুসলিমদের একটি বড় দল থানা চত্বরে জড়ো হয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

পরিস্থিতির নাজুকতা বিবেচনা করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় পৌঁছান। তারা বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে আলোচনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। উত্তরা কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) দীপন এমএন নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এবং উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এসপির আশ্বাসের পর থানাসংলগ্ন এলাকা থেকে জনতা শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করে।

বর্তমানে ভাটকল জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা উৎসবের আবহে মুসলিমদের ধর্মীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ফের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতের কর্ণাটকে গণেশ শোভাযাত্রা থেকে মসজিদ ও মাদরাসায় পাথর নিক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উত্তরা কন্নড় জেলার স্পর্শকাতর শহর ভাটকলে গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় একদল লোক স্থানীয় একটি মসজিদ ও মাদরাসা ভবন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে ভাটকালের গুলমি রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালান্দ এলাকা থেকে শুরু হওয়া একটি সর্বজনীন গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রা গুলমি রেলওয়ে ব্রিজ অতিক্রম করে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। শোভাযাত্রার মধ্য থেকে অসাধু কিছু ব্যক্তি হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে অবস্থিত 'ইসমাইল সুন্নি জামিয়া মসজিদ' এবং এর নিচতলায় পরিচালিত 'তাজউস-সুন্নাহ আরবি মাদরাসা' লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে। এতে ইবাদতখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অন্তত দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলার পর স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই আব্দুল আলিম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ভাটকল টাউন থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অভিযোগ দায়েরের পরপরই স্থানীয় মুসলিমদের একটি বড় দল থানা চত্বরে জড়ো হয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

পরিস্থিতির নাজুকতা বিবেচনা করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় পৌঁছান। তারা বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে আলোচনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। উত্তরা কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) দীপন এমএন নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এবং উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এসপির আশ্বাসের পর থানাসংলগ্ন এলাকা থেকে জনতা শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করে।

বর্তমানে ভাটকল জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা উৎসবের আবহে মুসলিমদের ধর্মীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ফের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ