বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

সেনা প্রত্যাহারের পর গাজার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ঘাঁটি চিহ্নিত করে মানচিত্র প্রকাশ করল ইসরায়েলি বাহিনী

গাজায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান ম্যাপ প্রকাশ: সরে যাওয়া সত্ত্বেও অর্ধেকেই নিয়ন্ত্রণ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান ম্যাপ প্রকাশ: সরে যাওয়া সত্ত্বেও অর্ধেকেই নিয়ন্ত্রণ

গাজা উপত্যকার বেশ কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাথমিক প্রত্যাহারের পর, হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরে ফিরতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিজেদের বর্তমান সামরিক অবস্থানের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। মানচিত্রে রাফা, ফিলাডেলফি করিডর এবং উত্তর গাজার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, যেকোনো সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি যাওয়া বা সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরা ও সাঁতার কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ধাপের সেনা প্রত্যাহারের পর এই মানচিত্র প্রকাশ প্রমাণ করে যে গাজার বেশিরভাগ এলাকা থেকে সরে গেলেও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রাফা এলাকা।

  • কারেম আবু সালেম (কেরেম শালম) ক্রসিং।

  • ফিলাডেলফি (সালাহ আল-দিন) করিডর—যা মিশর-গাজা সীমান্ত বরাবর অবস্থিত।

পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলেও কিছু সামরিক ঘাঁটি এখনো রয়েছে:

  • বেইত হানুন।

  • বেইত লাহিইয়া।

  • আল-শুজা'ইয়ার মতো এলাকা।

এছাড়াও, গাজা সীমান্তের আশেপাশে 'নাহাল ওজ' এবং 'নিরিম' সহ অন্যান্য বসতিগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।

সেনাবাহিনী গাজাবাসীদেরকে আল-রশিদ সড়ক এবং সালাহ আল-দিন সড়ক ধরে দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাতায়াতের অনুমতি দিলেও, সামরিক ঘাঁটির কাছে ঘেঁষতে কঠোরভাবে বারণ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আরও সতর্ক করেছে যে:

  • আগামী দিনগুলোতে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, সাঁতার কাটা বা ডাইভ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • ইসরায়েলের সঙ্গে লাগোয়া বাফার জোন (Buffer Zone)-এর কাছাকাছি যাওয়া "মারাত্মক বিপজ্জনক" এবং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই ঘোষণার আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরের পশ্চিমের আল-জালা সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, দক্ষিণের তাল আল-হাওয়া এবং জেইতুন মহল্লা থেকে সরে আসে। এছাড়া, পূর্বের শেখ রাদওয়ান পুকুর এলাকা, পশ্চিমের আল-রশিদ সড়ক, এবং মধ্য গাজার আবু হামিদ ও বনি সুহেইলা গোলচত্বর থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়।

যদিও খান ইউনিস থেকে বাহিনী প্রত্যাহার হয়েছে এবং সেখানে একইসঙ্গে বিমান হামলাও চলছে, এই প্রাথমিক প্রত্যাহার সত্ত্বেও গাজার প্রায় ৫৩% ধ্বংসপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি এলাকা ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে বাফার জোন বরাবর বাকি এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েল সরে যেতে পারে, যা গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ১৫% এলাকা।

বিষয় : গাজা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গাজায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান ম্যাপ প্রকাশ: সরে যাওয়া সত্ত্বেও অর্ধেকেই নিয়ন্ত্রণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

গাজা উপত্যকার বেশ কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাথমিক প্রত্যাহারের পর, হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরে ফিরতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিজেদের বর্তমান সামরিক অবস্থানের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। মানচিত্রে রাফা, ফিলাডেলফি করিডর এবং উত্তর গাজার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, যেকোনো সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি যাওয়া বা সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরা ও সাঁতার কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ধাপের সেনা প্রত্যাহারের পর এই মানচিত্র প্রকাশ প্রমাণ করে যে গাজার বেশিরভাগ এলাকা থেকে সরে গেলেও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রাফা এলাকা।

  • কারেম আবু সালেম (কেরেম শালম) ক্রসিং।

  • ফিলাডেলফি (সালাহ আল-দিন) করিডর—যা মিশর-গাজা সীমান্ত বরাবর অবস্থিত।

পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলেও কিছু সামরিক ঘাঁটি এখনো রয়েছে:

  • বেইত হানুন।

  • বেইত লাহিইয়া।

  • আল-শুজা'ইয়ার মতো এলাকা।

এছাড়াও, গাজা সীমান্তের আশেপাশে 'নাহাল ওজ' এবং 'নিরিম' সহ অন্যান্য বসতিগুলোতে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।

সেনাবাহিনী গাজাবাসীদেরকে আল-রশিদ সড়ক এবং সালাহ আল-দিন সড়ক ধরে দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাতায়াতের অনুমতি দিলেও, সামরিক ঘাঁটির কাছে ঘেঁষতে কঠোরভাবে বারণ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আরও সতর্ক করেছে যে:

  • আগামী দিনগুলোতে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা, সাঁতার কাটা বা ডাইভ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • ইসরায়েলের সঙ্গে লাগোয়া বাফার জোন (Buffer Zone)-এর কাছাকাছি যাওয়া "মারাত্মক বিপজ্জনক" এবং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই ঘোষণার আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরের পশ্চিমের আল-জালা সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, দক্ষিণের তাল আল-হাওয়া এবং জেইতুন মহল্লা থেকে সরে আসে। এছাড়া, পূর্বের শেখ রাদওয়ান পুকুর এলাকা, পশ্চিমের আল-রশিদ সড়ক, এবং মধ্য গাজার আবু হামিদ ও বনি সুহেইলা গোলচত্বর থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়।

যদিও খান ইউনিস থেকে বাহিনী প্রত্যাহার হয়েছে এবং সেখানে একইসঙ্গে বিমান হামলাও চলছে, এই প্রাথমিক প্রত্যাহার সত্ত্বেও গাজার প্রায় ৫৩% ধ্বংসপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি এলাকা ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে বাফার জোন বরাবর বাকি এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েল সরে যেতে পারে, যা গাজা ভূখণ্ডের প্রায় ১৫% এলাকা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত