বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পর্যালোচনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের নিয়োগে উদ্যোগ

ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: দাওরা হাদিস সনদধারীদের সুযোগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার চিঠি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: দাওরা হাদিস সনদধারীদের সুযোগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার চিঠি

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস সনদধারীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি (ডিও লেটার) দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেছেন, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিবেচনা করে দেখছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস ডিগ্রিপ্রাপ্তদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির নতুন দুয়ার খুলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি তার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও, হেফাজতে ইসলামসহ দেশের আলেম-ওলামাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরে সংগীতকে একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাকে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন।

ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টাকে দেওয়া চিঠিতে প্রস্তাব করেছেন যে, কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস সনদধারীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। এই দাওরা হাদিসের সনদকে পূর্ববর্তী সরকার এমএ অ্যারাবিক ও এমএ ইসলামিক স্টাডিজের সমমর্যাদা দিয়েছে। তিনি যুক্তি দেখান যে, এই সনদধারীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্ম, বাংলাসহ অন্যান্য বিষয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পড়াতে সক্ষম হবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ধর্ম উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন যে, তাদের মন্ত্রণালয়ে আগে ধর্মীয় শিক্ষক নামে কোনো নির্দিষ্ট পদ ছিল না; সহকারী শিক্ষকরাই ধর্মসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পড়াতেন। তবে বর্তমানে ধর্ম শিক্ষার ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দাওরা হাদিস সনদধারীদের নিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি এ বিষয়ে আবারও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করবেন। এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষা কাঠামোতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার কর্মসংস্থানে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : ধর্ম উপদেষ্টা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: দাওরা হাদিস সনদধারীদের সুযোগ দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস সনদধারীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি (ডিও লেটার) দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেছেন, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিবেচনা করে দেখছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস ডিগ্রিপ্রাপ্তদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির নতুন দুয়ার খুলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি তার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও, হেফাজতে ইসলামসহ দেশের আলেম-ওলামাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরে সংগীতকে একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাকে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন।

ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টাকে দেওয়া চিঠিতে প্রস্তাব করেছেন যে, কওমি মাদরাসার দাওরা হাদিস সনদধারীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। এই দাওরা হাদিসের সনদকে পূর্ববর্তী সরকার এমএ অ্যারাবিক ও এমএ ইসলামিক স্টাডিজের সমমর্যাদা দিয়েছে। তিনি যুক্তি দেখান যে, এই সনদধারীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্ম, বাংলাসহ অন্যান্য বিষয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পড়াতে সক্ষম হবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ধর্ম উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন যে, তাদের মন্ত্রণালয়ে আগে ধর্মীয় শিক্ষক নামে কোনো নির্দিষ্ট পদ ছিল না; সহকারী শিক্ষকরাই ধর্মসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পড়াতেন। তবে বর্তমানে ধর্ম শিক্ষার ক্লাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দাওরা হাদিস সনদধারীদের নিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি এ বিষয়ে আবারও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ করবেন। এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষা কাঠামোতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার কর্মসংস্থানে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত