শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল পরিবারে দুর্নীতি তদন্ত: আয়কর নথি জব্দের আদেশ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল পরিবারে দুর্নীতি তদন্ত: আয়কর নথি জব্দের আদেশ

সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরি কামাল এবং দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামালের আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চারটি পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (৩ নভেম্বর) এই আদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ সোমবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দাখিল করা চারটি পৃথক আবেদনের পর আদালত এই আদেশ জারি করে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজিল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, লোটাস কামাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

প্রথম আবেদনে বলা হয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং নামীয় ৩২টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করেছেন।

দ্বিতীয় আবেদনে তার স্ত্রী কাশমিরি কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রী থাকাকালে লোটাস কামাল অবৈধভাবে অর্জিত ৪৪ কোটি ১১ লাখ টাকা কাশমিরির নামে অর্জন করেন এবং ভোগদখলে রাখেন। এছাড়া কাশমিরির নামে থাকা ২০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

তৃতীয় আবেদনে মেয়ে কাশফি কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার নামে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

চতুর্থ আবেদনে নাফিসা কামালের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, বাবার মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে তিনি ৬২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।

দুদক আবেদনগুলোতে উল্লেখ করেছে, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আয়কর নথি, এ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন, নোটশিট এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও রেকর্ডপত্র জব্দ ও পর্যালোচনা করা জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই নির্দেশ দুদকের চলমান তদন্তকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিষয় : রাজনীতি বাংলাদেশ দুর্নীতি দুদক বিচার

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল পরিবারে দুর্নীতি তদন্ত: আয়কর নথি জব্দের আদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরি কামাল এবং দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামালের আয়কর সংক্রান্ত নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চারটি পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (৩ নভেম্বর) এই আদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ সোমবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দাখিল করা চারটি পৃথক আবেদনের পর আদালত এই আদেশ জারি করে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজিল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, লোটাস কামাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

প্রথম আবেদনে বলা হয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং নামীয় ৩২টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করেছেন।

দ্বিতীয় আবেদনে তার স্ত্রী কাশমিরি কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রী থাকাকালে লোটাস কামাল অবৈধভাবে অর্জিত ৪৪ কোটি ১১ লাখ টাকা কাশমিরির নামে অর্জন করেন এবং ভোগদখলে রাখেন। এছাড়া কাশমিরির নামে থাকা ২০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

তৃতীয় আবেদনে মেয়ে কাশফি কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার নামে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১৭৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

চতুর্থ আবেদনে নাফিসা কামালের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, বাবার মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে তিনি ৬২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেন।

দুদক আবেদনগুলোতে উল্লেখ করেছে, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আয়কর নথি, এ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন, নোটশিট এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও রেকর্ডপত্র জব্দ ও পর্যালোচনা করা জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই নির্দেশ দুদকের চলমান তদন্তকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত