ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ায় এক তফসিলি জাতিভুক্ত তরুণীর আত্মহত্যার জেরে মুসলিম যুবক আরবাজের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ মামলা করা হয়েছে। এরপর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আন্দোলনের সময়ে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করায় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৯ অক্টোবর হারসুদ থানার এলাকায় এক তরুণী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, তার বিয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আরবাজ নামে এক যুবক তাকে হুমকি দিতেন। এ ঘটনায় হিন্দু সংগঠনগুলো থানার সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভ করে এবং ফেরার পথে আরবাজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাড়ির সবকিছুই পুড়ে যায়, যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ পরে আরবাজ ও তার পরিবারকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ আইনে মামলা করে। এরপর পৌরসভা বাড়িটিকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ দাবি করে নোটিশ দেয়।
বুধবার সকালে বিপুল পুলিশবাহিনী নিয়ে প্রশাসন বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে। সমালোচকদের মতে, এটি আইনগত সুরক্ষা না মেনে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক প্রবণতার অংশ।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারবার বিচারবহির্ভূত ভাঙচুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ‘বুলডোজার নীতি’ চলছেই।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেন,
“আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এক ব্যক্তির অভিযোগে পুরো পরিবারকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে।”
এই ঘটনার ফলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাইসেন জেলাতেও সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিলম্ব হওয়ায় উত্তেজিত জনতা একটি মসজিদসহ মুসলিম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে।
হারসুদের এক স্থানীয় বাসিন্দার মন্তব্য—
“ভয় নিয়ে বেঁচে আছি। কাউকে অভিযুক্ত করা হলেই পুরো পরিবারকে ধ্বংস করা হয়। এ কেমন ন্যায়?”
ঘটনাটি আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি—সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ায় এক তফসিলি জাতিভুক্ত তরুণীর আত্মহত্যার জেরে মুসলিম যুবক আরবাজের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ মামলা করা হয়েছে। এরপর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আন্দোলনের সময়ে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করায় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৯ অক্টোবর হারসুদ থানার এলাকায় এক তরুণী বিষপানে আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, তার বিয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আরবাজ নামে এক যুবক তাকে হুমকি দিতেন। এ ঘটনায় হিন্দু সংগঠনগুলো থানার সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভ করে এবং ফেরার পথে আরবাজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাড়ির সবকিছুই পুড়ে যায়, যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ পরে আরবাজ ও তার পরিবারকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ আইনে মামলা করে। এরপর পৌরসভা বাড়িটিকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ দাবি করে নোটিশ দেয়।
বুধবার সকালে বিপুল পুলিশবাহিনী নিয়ে প্রশাসন বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে। সমালোচকদের মতে, এটি আইনগত সুরক্ষা না মেনে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক প্রবণতার অংশ।
আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারবার বিচারবহির্ভূত ভাঙচুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ‘বুলডোজার নীতি’ চলছেই।
মানবাধিকারকর্মীরা বলেন,
“আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এক ব্যক্তির অভিযোগে পুরো পরিবারকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের মূল আদর্শের বিরুদ্ধে।”
এই ঘটনার ফলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাইসেন জেলাতেও সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিলম্ব হওয়ায় উত্তেজিত জনতা একটি মসজিদসহ মুসলিম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে।
হারসুদের এক স্থানীয় বাসিন্দার মন্তব্য—
“ভয় নিয়ে বেঁচে আছি। কাউকে অভিযুক্ত করা হলেই পুরো পরিবারকে ধ্বংস করা হয়। এ কেমন ন্যায়?”
ঘটনাটি আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি—সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন