ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপ সৃষ্টি করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি বাস্তবায়নের এক চরম হুংকার দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতায় নিজের নির্বাচনি এলাকা ভবানীপুরে এক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে হলে প্রত্যেককে 'বন্দে মাতরম' গাইতে হবে। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সনাতন সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মেরুকরণের রাজনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় আয়োজিত এক গণসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট হুংকার দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে হলে অবশ্যই 'বন্দে মাতরম' গাইতে হবে। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের চরমপন্থী সংজ্ঞাকে অস্ত্র বানিয়ে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আপস করা হবে না।শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেওয়া হয় না, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতামুক্ত রাখা হয়। ক্যাম্পাসে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের তিনি 'টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং' এবং তথাকথিত 'জিহাদি' শক্তি বলে আখ্যা দেন।প্রতিবেদনে জানা যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বৈষম্যমূলক স্বপ্ন বাস্তবায়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি ঘোষণা দেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজ্যজুড়ে 'সনাতন' সংস্কৃতি ও একমুখী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি জানান, সংবাদমাধ্যম যাই লিখুক না কেন, তাঁদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন থামানো যাবে না। একই সাথে বামপন্থী ও বিরোধী দলগুলোকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, তারা জনগণের সমর্থন হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে।বিশ্লেষকদের মতে, 'বন্দে মাতরম' গানের বহু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় বিতর্ক রয়েছে, যা একে মুসলিম ও অন্য বহুত্ববাদী সম্প্রদায়ের কাছে চাপিয়ে দেওয়ার এক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। ভারতীয় সংবিধান ও নাগরিক অধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার এরূপ বক্তব্য রাজ্যের সংখ্যালঘু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক স্বাধীনতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উগ্রতা ছড়িয়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করার এই অপচেষ্টা ভারতের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য এক মারাত্মক সংকেত।