ঢাকা    সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা    সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
কওমী টাইমস

ধর্মীয় বিদ্বেষ ও আবাসন বৈষম্যের অভিযোগ

মীরাটে মুসলিম পরিবারকে বাড়ি বিক্রিতে হিন্দু সংগঠনের তীব্র আপত্তি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

মীরাটে মুসলিম পরিবারকে বাড়ি বিক্রিতে হিন্দু সংগঠনের তীব্র আপত্তি

উত্তর প্রদেশের মীরাটে এক মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারকে বাড়ি বিক্রি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সংগঠনগুলির তীব্র প্রতিবাদের ফলে দেশজুড়ে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের উদ্বেগ। এই মুসলিম-বিরোধী প্রতিবাদ ভারতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পদ্ধতিগত প্রান্তিকীকরণের বৃহত্তর চিত্রের অংশ, যা ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রকট হচ্ছে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি কেনা নিয়ে আপত্তি, চাপ সৃষ্টি এবং হেনস্থার এই ঘটনাগুলি সমাজে গভীর ফাটল সৃষ্টি করছে।

মীরাটের থাপার নগর এলাকায় স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলির আপত্তি সত্ত্বেও একটি বাড়ি মুসলিম ব্যবসায়ী সাঈদ আহমেদ-এর কাছে বিক্রি করা হয়। জানা গেছে, প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই বিক্রয় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর পরিবারটি দু'দিন আগে বাড়িতে উঠেছেন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা এই বিক্রির প্রতিবাদে স্থানীয় থানায় ধর্না-অবস্থান শুরু করেন। তাঁরা সেখানে হনুমান চালিসা পাঠ করে ধর্মীয় স্লোগান দেন এবং বাড়ি বিক্রির চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রতিবাদকারীদের দাবি, এই বিক্রি ওই এলাকা থেকে হিন্দুদের ‘পলায়নে’ বাধ্য করবে।

প্রতিবাদ ও চাপের মুখে সাঈদ আহমেদকে পুলিশ স্টেশনে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। ক্রমাগত পুলিশ স্টেশন থেকে ফোন আসার ফলে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর স্ত্রী আফসানা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পথে সাঈদ আহমেদ অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাড়িটি কেনার প্রস্তাব দিলেও বিক্রেতা নরেশ কালরা শেষ পর্যন্ত সাঈদ আহমেদের কাছেই বিক্রি সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি সদর বাজার থানা এলাকার। থানায় বিক্ষোভের খবর পেয়ে সিও ক্যান্ট নবীনা শুক্লা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে এই বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়— কেউ কেউ পুলিশকে বিষয়টি মেটানোর সুযোগ দিতে রাজি থাকলেও, অখিল ভারতীয় হিন্দু সুরক্ষা সংগঠনের জাতীয় সভাপতি শচীন সিরোহী-র নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী চুক্তি পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে অনড় থাকেন। সিরোহী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের দাবি মানার ব্যাপারে গড়িমসি করছে।

এই ঘটনাটি মুসলিমদের হেনস্থার বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০১৭ সালে, এই মীরাট শহরেই এক মুসলিম পরিবার প্রধানত হিন্দু অধ্যুষিত মালিওয়াড়া এলাকায় বাড়ি কেনার পর একই ধরনের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল। প্রতিবাদকারীরা মুসলিম পরিবারের বিরুদ্ধে তথাকথিত “ল্যান্ড জিহাদ”-এর অভিযোগ তুলেছিল। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে দাবি করা হয়, মুসলিমরা জনপরিসংখ্যানগত পরিবর্তন ঘটাতে এবং অবশেষে এলাকা দখল করতে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় কৌশলগতভাবে বাড়ি কিনছে। এই ঘটনাগুলি বৃহত্তর আবাসন বৈষম্য এবং গোষ্ঠীগত বিচ্ছিন্নতার একটি অংশ, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি হিন্দু-অধ্যুষিত পাড়ায় বাড়ি কেনা বা ভাড়া নিতে গিয়ে প্রায়শই সমস্যার সম্মুখীন হন।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


মীরাটে মুসলিম পরিবারকে বাড়ি বিক্রিতে হিন্দু সংগঠনের তীব্র আপত্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

উত্তর প্রদেশের মীরাটে এক মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারকে বাড়ি বিক্রি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সংগঠনগুলির তীব্র প্রতিবাদের ফলে দেশজুড়ে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের উদ্বেগ। এই মুসলিম-বিরোধী প্রতিবাদ ভারতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পদ্ধতিগত প্রান্তিকীকরণের বৃহত্তর চিত্রের অংশ, যা ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রকট হচ্ছে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি কেনা নিয়ে আপত্তি, চাপ সৃষ্টি এবং হেনস্থার এই ঘটনাগুলি সমাজে গভীর ফাটল সৃষ্টি করছে।

মীরাটের থাপার নগর এলাকায় স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলির আপত্তি সত্ত্বেও একটি বাড়ি মুসলিম ব্যবসায়ী সাঈদ আহমেদ-এর কাছে বিক্রি করা হয়। জানা গেছে, প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই বিক্রয় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর পরিবারটি দু'দিন আগে বাড়িতে উঠেছেন।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা এই বিক্রির প্রতিবাদে স্থানীয় থানায় ধর্না-অবস্থান শুরু করেন। তাঁরা সেখানে হনুমান চালিসা পাঠ করে ধর্মীয় স্লোগান দেন এবং বাড়ি বিক্রির চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রতিবাদকারীদের দাবি, এই বিক্রি ওই এলাকা থেকে হিন্দুদের ‘পলায়নে’ বাধ্য করবে।

প্রতিবাদ ও চাপের মুখে সাঈদ আহমেদকে পুলিশ স্টেশনে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। ক্রমাগত পুলিশ স্টেশন থেকে ফোন আসার ফলে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর স্ত্রী আফসানা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পথে সাঈদ আহমেদ অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাড়িটি কেনার প্রস্তাব দিলেও বিক্রেতা নরেশ কালরা শেষ পর্যন্ত সাঈদ আহমেদের কাছেই বিক্রি সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি সদর বাজার থানা এলাকার। থানায় বিক্ষোভের খবর পেয়ে সিও ক্যান্ট নবীনা শুক্লা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে এই বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়— কেউ কেউ পুলিশকে বিষয়টি মেটানোর সুযোগ দিতে রাজি থাকলেও, অখিল ভারতীয় হিন্দু সুরক্ষা সংগঠনের জাতীয় সভাপতি শচীন সিরোহী-র নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী চুক্তি পুরোপুরি বাতিলের দাবিতে অনড় থাকেন। সিরোহী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের দাবি মানার ব্যাপারে গড়িমসি করছে।

এই ঘটনাটি মুসলিমদের হেনস্থার বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০১৭ সালে, এই মীরাট শহরেই এক মুসলিম পরিবার প্রধানত হিন্দু অধ্যুষিত মালিওয়াড়া এলাকায় বাড়ি কেনার পর একই ধরনের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল। প্রতিবাদকারীরা মুসলিম পরিবারের বিরুদ্ধে তথাকথিত “ল্যান্ড জিহাদ”-এর অভিযোগ তুলেছিল। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে দাবি করা হয়, মুসলিমরা জনপরিসংখ্যানগত পরিবর্তন ঘটাতে এবং অবশেষে এলাকা দখল করতে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় কৌশলগতভাবে বাড়ি কিনছে। এই ঘটনাগুলি বৃহত্তর আবাসন বৈষম্য এবং গোষ্ঠীগত বিচ্ছিন্নতার একটি অংশ, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি হিন্দু-অধ্যুষিত পাড়ায় বাড়ি কেনা বা ভাড়া নিতে গিয়ে প্রায়শই সমস্যার সম্মুখীন হন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৫ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত