দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে প্রধান নিরাপত্তাদাতা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও ভারতের আক্রমণাত্মক কূটনীতি প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও দূরত্ব তৈরি করছে। পানি চুক্তি স্থগিতকরণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক প্রভাব—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই নীতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং তার নিজস্ব বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ভারত বহু বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রধান স্থপতি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু প্রতিবেশী ছোট রাষ্ট্রগুলো অভিযোগ করছে—ভারতের কঠোর কৌশল ও হস্তক্ষেপ তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে চাপ সৃষ্টি করছে। বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয়—এই পুরো অঞ্চলে এখন ভারতের প্রতি বিরোধ ও অনাস্থা দ্রুত বাড়ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নয়াদিল্লি দাবি করে এসেছে—বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় ভারতীয় সমর্থন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের দৃঢ় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দেয়।
কিন্তু ২০২৪ সালে এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। হাসিনাকে নয়াদিল্লির সবচেয়ে বিশ্বস্ত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখা হতো। তার পতনের পর ভারত বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কঠোর করে, কূটনৈতিক যোগাযোগ কমায় এবং বিদ্রোহ দমন-পীড়নের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়—যা বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী জনমত তৈরি করেছে।
কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নাজমুস সাকিব বলেন,
“বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে ভারত সরাসরি কর্তৃত্ববাদকে সমর্থন করেছে। ফলে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি জনসমর্থন দ্রুত কমে গেছে।”
ঢাকা এখন হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যদি এই চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা না মানে, তাহলে “অবিশ্বস্ত মিত্র” হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী প্রশ্নের মুখে পড়বে।
১৯৪৭ সালের পর থেকেই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর সম্পর্ক জটিল। তবে ২০২৫ সালে ভারত একতরফাভাবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে দুই দেশের আস্থার শেষ অবলম্বনটিও ভেঙে পড়ে।
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদ পাল্টা জবাব দেয় এবং পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের সম্পর্ক হিমাগারেই রয়ে গেছে।
ভারতীয় প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এমন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল অন্যতম। ২০১৫ সালে মাধেসি আন্দোলনের সময় নয়াদিল্লির অনানুষ্ঠানিক অবরোধ কাঠমান্ডুর প্রতি ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২০২৫ সালের বিদ্রোহে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা নেতাদের বাদ দেওয়া হয়। নতুন প্রশাসন চীনের স্থগিত বিআরআই প্রকল্পগুলো পুনরায় সক্রিয় করে। পাশাপাশি কালাপানি, লিপুলেখ নিয়ে সীমান্ত বিরোধ আবার তীব্র হয়। নেপালের দাবি—ভারত ৮০ কিমি দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সুগৌলি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং নেপালি ভূখণ্ড দখল করছে।
২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারত–মালদ্বীপ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় শীতল হয়। মুইজুর প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল—“ভারতীয় প্রভাবমুক্ত মালদ্বীপ”।
ভারতীয় সামরিক উপস্থিতিকে "অযৌক্তিক প্রভাব বিস্তার" হিসেবে তুলে ধরে মুইজু প্রকাশ্যে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কাঠামোগত ও নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে মালদ্বীপ এখন প্রকাশ্যেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পতনের সময় ভারত প্রথমে ৪ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ সহায়তা দেয়। কিন্তু আদানি গ্রুপকে দেওয়া বায়ু-বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং অস্বচ্ছ আর্থিক চুক্তি নিয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ—নয়াদিল্লির চাপেই এসব প্রকল্প হাতবদল হয়।
গবেষকরা বলছেন, ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপের কারণে শ্রীলঙ্কা ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে; কিন্তু দুর্বল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক জটিলতা তাদের স্বাধীন অবস্থানকে নাজুক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে তার প্রতিটি কঠোর পদক্ষেপ প্রতিবেশীদের চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধাক্কা ভারতের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বিশেষ করে যখন নয়াদিল্লি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা জি২০–তে বড় ভূমিকা চাইছে।
ড. নাজমুস সাকিব বলেন,
“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি একধরনের ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’। চাপ বাড়ালে প্রতিবেশীরা দ্রুত বিকল্প অংশীদার খুঁজছে।”
ভারতের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—আঞ্চলিক নেতৃত্বে কঠোর প্রভাব নাকি পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা।
বিষয় : ভারত কূটনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভূরাজনীতি

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে প্রধান নিরাপত্তাদাতা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও ভারতের আক্রমণাত্মক কূটনীতি প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও দূরত্ব তৈরি করছে। পানি চুক্তি স্থগিতকরণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং সামরিক প্রভাব—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই নীতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং তার নিজস্ব বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ভারত বহু বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রধান স্থপতি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু প্রতিবেশী ছোট রাষ্ট্রগুলো অভিযোগ করছে—ভারতের কঠোর কৌশল ও হস্তক্ষেপ তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে চাপ সৃষ্টি করছে। বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয়—এই পুরো অঞ্চলে এখন ভারতের প্রতি বিরোধ ও অনাস্থা দ্রুত বাড়ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নয়াদিল্লি দাবি করে এসেছে—বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় ভারতীয় সমর্থন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের দৃঢ় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ মাত্রা দেয়।
কিন্তু ২০২৪ সালে এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। হাসিনাকে নয়াদিল্লির সবচেয়ে বিশ্বস্ত আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখা হতো। তার পতনের পর ভারত বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কঠোর করে, কূটনৈতিক যোগাযোগ কমায় এবং বিদ্রোহ দমন-পীড়নের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে আশ্রয় দেয়—যা বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী জনমত তৈরি করেছে।
কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নাজমুস সাকিব বলেন,
“বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে ভারত সরাসরি কর্তৃত্ববাদকে সমর্থন করেছে। ফলে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি জনসমর্থন দ্রুত কমে গেছে।”
ঢাকা এখন হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত যদি এই চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা না মানে, তাহলে “অবিশ্বস্ত মিত্র” হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী প্রশ্নের মুখে পড়বে।
১৯৪৭ সালের পর থেকেই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর সম্পর্ক জটিল। তবে ২০২৫ সালে ভারত একতরফাভাবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে দুই দেশের আস্থার শেষ অবলম্বনটিও ভেঙে পড়ে।
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদ পাল্টা জবাব দেয় এবং পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের সম্পর্ক হিমাগারেই রয়ে গেছে।
ভারতীয় প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এমন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল অন্যতম। ২০১৫ সালে মাধেসি আন্দোলনের সময় নয়াদিল্লির অনানুষ্ঠানিক অবরোধ কাঠমান্ডুর প্রতি ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২০২৫ সালের বিদ্রোহে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা নেতাদের বাদ দেওয়া হয়। নতুন প্রশাসন চীনের স্থগিত বিআরআই প্রকল্পগুলো পুনরায় সক্রিয় করে। পাশাপাশি কালাপানি, লিপুলেখ নিয়ে সীমান্ত বিরোধ আবার তীব্র হয়। নেপালের দাবি—ভারত ৮০ কিমি দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সুগৌলি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং নেপালি ভূখণ্ড দখল করছে।
২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারত–মালদ্বীপ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় শীতল হয়। মুইজুর প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল—“ভারতীয় প্রভাবমুক্ত মালদ্বীপ”।
ভারতীয় সামরিক উপস্থিতিকে "অযৌক্তিক প্রভাব বিস্তার" হিসেবে তুলে ধরে মুইজু প্রকাশ্যে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান। কাঠামোগত ও নিরাপত্তা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে মালদ্বীপ এখন প্রকাশ্যেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পতনের সময় ভারত প্রথমে ৪ বিলিয়ন ডলারের ত্রাণ সহায়তা দেয়। কিন্তু আদানি গ্রুপকে দেওয়া বায়ু-বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং অস্বচ্ছ আর্থিক চুক্তি নিয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ—নয়াদিল্লির চাপেই এসব প্রকল্প হাতবদল হয়।
গবেষকরা বলছেন, ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপের কারণে শ্রীলঙ্কা ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে; কিন্তু দুর্বল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক জটিলতা তাদের স্বাধীন অবস্থানকে নাজুক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে তার প্রতিটি কঠোর পদক্ষেপ প্রতিবেশীদের চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধাক্কা ভারতের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বিশেষ করে যখন নয়াদিল্লি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা জি২০–তে বড় ভূমিকা চাইছে।
ড. নাজমুস সাকিব বলেন,
“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি একধরনের ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’। চাপ বাড়ালে প্রতিবেশীরা দ্রুত বিকল্প অংশীদার খুঁজছে।”
ভারতের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—আঞ্চলিক নেতৃত্বে কঠোর প্রভাব নাকি পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা।

আপনার মতামত লিখুন