নির্বাচন পেছাতে একটি চাঁদাবাজ ও জালেম চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। সিলেটের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি বলেন, যারা আগে নির্বাচন নিয়ে অতিউৎসাহী ছিল, এখন তারাই নির্বাচন পেছাতে মরিয়া। জনগণের প্রত্যাখ্যানেই তাদের এই অবস্থান পরিবর্তন বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম চরমোনাই পীর বলেছেন, “চাঁদাবাজরা এখন নির্বাচন পেছানোর জন্য পাগল হয়ে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, জনগণের সমর্থন হারিয়ে তারাই এখন নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সর্বশেষ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন,
“রাশি যখন বামে ঘোরে, তখন সব পরিকল্পনাই বামে চলে যায়। আপনারা যত শয়তানি পরিকল্পনা করবেন, ততই বাংলাদেশের জনগণ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও মানবতাপ্রেমিকরা যদি আজ ব্যর্থ হয় বা ভুল করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইতিহাসে তা কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে। তিনি দাবি করেন,
“আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মানুষ আমাদের পাঁচ দফা দাবির পক্ষে রয়েছে।”
মুফতি রেজাউল করীম বলেন,
“আমরা ৫ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি কারণ ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনার পর দেশের হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, কেউ পঙ্গু হয়েছে।”
তিনি জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
“ইলিয়াস আলী গুম হয়ে আর ফেরত আসেননি, আর কোনোদিন আসবেন বলেও মনে হয় না। কিন্তু দুঃখজনক হলো—৫৩ বছর ধরে যারা আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল, তাদের প্রকৃত চরিত্রও এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার কষ্ট হয়—এত গুম হলো, লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতাকর্মীর জীবন বিপন্ন হলো, কত মানুষ জেলে গেল।”
চরমোনাই পীরের দাবি,
“জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আমরা চেয়েছিলাম সংস্কার, খুনী-গুমকারী ও টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার, এবং তারপর একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচন। কিন্তু আমরা হতবাক হয়ে দেখছি—সংস্কারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বিচারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন,
“যারা আগে নির্বাচনের জন্য পাগল ছিল, আজ যখন দেখল জনগণ জালেম-চাঁদাবাজদের পক্ষে নয়, তখন তারাই পাগলের মতো নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি—নির্বাচন পেছানো যাবে না।”
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সারওয়ার কামাল আজিজি
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন
বিষয় : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
নির্বাচন পেছাতে একটি চাঁদাবাজ ও জালেম চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। সিলেটের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে তিনি বলেন, যারা আগে নির্বাচন নিয়ে অতিউৎসাহী ছিল, এখন তারাই নির্বাচন পেছাতে মরিয়া। জনগণের প্রত্যাখ্যানেই তাদের এই অবস্থান পরিবর্তন বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম চরমোনাই পীর বলেছেন, “চাঁদাবাজরা এখন নির্বাচন পেছানোর জন্য পাগল হয়ে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল, জনগণের সমর্থন হারিয়ে তারাই এখন নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সর্বশেষ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন,
“রাশি যখন বামে ঘোরে, তখন সব পরিকল্পনাই বামে চলে যায়। আপনারা যত শয়তানি পরিকল্পনা করবেন, ততই বাংলাদেশের জনগণ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”
তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ও মানবতাপ্রেমিকরা যদি আজ ব্যর্থ হয় বা ভুল করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইতিহাসে তা কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে। তিনি দাবি করেন,
“আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মানুষ আমাদের পাঁচ দফা দাবির পক্ষে রয়েছে।”
মুফতি রেজাউল করীম বলেন,
“আমরা ৫ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি কারণ ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনার পর দেশের হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, কেউ পঙ্গু হয়েছে।”
তিনি জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
“ইলিয়াস আলী গুম হয়ে আর ফেরত আসেননি, আর কোনোদিন আসবেন বলেও মনে হয় না। কিন্তু দুঃখজনক হলো—৫৩ বছর ধরে যারা আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল, তাদের প্রকৃত চরিত্রও এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার কষ্ট হয়—এত গুম হলো, লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতাকর্মীর জীবন বিপন্ন হলো, কত মানুষ জেলে গেল।”
চরমোনাই পীরের দাবি,
“জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আমরা চেয়েছিলাম সংস্কার, খুনী-গুমকারী ও টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার, এবং তারপর একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচন। কিন্তু আমরা হতবাক হয়ে দেখছি—সংস্কারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বিচারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন,
“যারা আগে নির্বাচনের জন্য পাগল ছিল, আজ যখন দেখল জনগণ জালেম-চাঁদাবাজদের পক্ষে নয়, তখন তারাই পাগলের মতো নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি—নির্বাচন পেছানো যাবে না।”
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সারওয়ার কামাল আজিজি
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন

আপনার মতামত লিখুন