দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ডের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বকেয়া থাকা এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ বারবার অমান্য করার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালত এই বিষয়টিকে 'গুরুতর ত্রুটি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং পরবর্তী শুনানিতে স্বশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন। আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করার দায়ে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু হবে না, তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আনন্দ সেনের একক বেঞ্চে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানিতে উঠে আসে এই গুরুতর বিষয়টি। আদালত স্পষ্টতই লক্ষ্য করেন যে, সরকার ২০১৪ সালের ১৩ জুন হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশটি এখনও কার্যকর করেনি। ওই আদেশে সকল যোগ্য শিক্ষককে অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি সেন সরকারের এই উদাসীনতাকে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখেন। আদালত স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের প্রধান সচিব রাহুল পুরওয়ার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিষয়ক পরিচালককে পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিচার বিভাগীয় আদেশ 'ইচ্ছাকৃত ও সুচিন্তিতভাবে' লঙ্ঘন করার জন্য কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, ঝাড়খণ্ড সরকার ২০১৪ সালে একটি রেজোলিউশন জারি করে সেই বছরের পর অবসর নেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই রেজোলিউশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হলে, আদালত ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর সরকারের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে এবং সকল যোগ্য শিক্ষককে অবসর-পরবর্তী সুবিধা দ্রুত প্রদানের নির্দেশ দেয়।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সরকার এই রায় কখনওই কার্যকর করেনি। ফলে তাঁরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। তখন রাজ্য সরকার একটি হলফনামা পেশ করে দাবি করে যে, বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়ে গেছে। কিন্তু মুহাম্মদ আইজাবুল হক সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা আদালতে পাল্টা জানান যে তাঁরা কোনো অর্থ পাননি। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতকে বিভ্রান্ত করার এবং ন্যায়বিচারে বিলম্ব করার অভিযোগ এনে তাঁরা পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আদালত তলব করা কর্মকর্তাদের পরবর্তী শুনানিতে একটি স্পষ্ট ও হালনাগাদ স্থিতাবস্থা প্রতিবেদন (Status Report) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আট সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ডের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বকেয়া থাকা এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ বারবার অমান্য করার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালত এই বিষয়টিকে 'গুরুতর ত্রুটি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং পরবর্তী শুনানিতে স্বশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন। আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করার দায়ে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু হবে না, তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আনন্দ সেনের একক বেঞ্চে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানিতে উঠে আসে এই গুরুতর বিষয়টি। আদালত স্পষ্টতই লক্ষ্য করেন যে, সরকার ২০১৪ সালের ১৩ জুন হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশটি এখনও কার্যকর করেনি। ওই আদেশে সকল যোগ্য শিক্ষককে অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি সেন সরকারের এই উদাসীনতাকে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখেন। আদালত স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের প্রধান সচিব রাহুল পুরওয়ার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিষয়ক পরিচালককে পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিচার বিভাগীয় আদেশ 'ইচ্ছাকৃত ও সুচিন্তিতভাবে' লঙ্ঘন করার জন্য কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, ঝাড়খণ্ড সরকার ২০১৪ সালে একটি রেজোলিউশন জারি করে সেই বছরের পর অবসর নেওয়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই রেজোলিউশনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হলে, আদালত ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর সরকারের সিদ্ধান্তটি বাতিল করে এবং সকল যোগ্য শিক্ষককে অবসর-পরবর্তী সুবিধা দ্রুত প্রদানের নির্দেশ দেয়।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সরকার এই রায় কখনওই কার্যকর করেনি। ফলে তাঁরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। তখন রাজ্য সরকার একটি হলফনামা পেশ করে দাবি করে যে, বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়ে গেছে। কিন্তু মুহাম্মদ আইজাবুল হক সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা আদালতে পাল্টা জানান যে তাঁরা কোনো অর্থ পাননি। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতকে বিভ্রান্ত করার এবং ন্যায়বিচারে বিলম্ব করার অভিযোগ এনে তাঁরা পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আদালত তলব করা কর্মকর্তাদের পরবর্তী শুনানিতে একটি স্পষ্ট ও হালনাগাদ স্থিতাবস্থা প্রতিবেদন (Status Report) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আট সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন