বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধান উদ্ধৃত করে বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা

মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু শিরক মানব না — বন্দে মাতরম নিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানির কড়া বার্তা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু শিরক মানব না — বন্দে মাতরম নিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানির কড়া বার্তা

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, মুসলমানরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনা করতে পারে না—প্রয়োজনে তারা মৃত্যু মেনে নেবে, কিন্তু শিরক গ্রহণ করবে না।

চলমান ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন,

“আমরা মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু কখনোই শিরক মেনে নেব না।”

তিনি বলেন, “বন্দে মাতরম কেউ গাইলে বা পাঠ করলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলমানরা কেবল একজন আল্লাহরই উপাসনা করে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনায় যুক্ত করতে পারে না।”

তিনি জানান, ‘বন্দে মাতরম’-এর চারটি স্তবকে দেশকে “দুর্গা মাতা”-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং সেখানে উপাসনামূলক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়—

“মা, আমি তোমার উপাসনা করি”, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী নীতির পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, “এটি যেকোনো মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাই কাউকে তার বিশ্বাসের বিপরীতে কোনো স্লোগান বা গান গাইতে বাধ্য করা যায় না।”

তিনি ভারতের সংবিধানের ধারা ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতা)ধারা ১৯ (মতপ্রকাশের স্বাধীনতা)-র কথা তুলে ধরে বলেন,

“সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।”

দেশপ্রেম ও উপাসনার পার্থক্য পরিষ্কার করে তিনি বলেন,

“দেশপ্রেম এক বিষয়, দেশকে উপাসনা করা ভিন্ন বিষয়। মুসলমানদের দেশপ্রেমের কোনো সনদের দরকার নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।”

তিনি পুনরায় বলেন, “আমরা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করি, কারও সামনে মাথা নত করি না। প্রয়োজনে মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু শিরক মেনে নেব না।”

এদিকে, সোমবার লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ১০ ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে বিশেষ অধিবেশনে এই আলোচনা অব্যাহত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৯৩৭ সালে গানটির কয়েকটি স্তবক বাদ দেওয়াকে “গানের বিভাজন” বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন,

“আগে বন্দে মাতরম ভাগ হলো, তারপর দেশ ভাগ হলো।”

তিনি এ জন্য কংগ্রেস ও জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, সরকার নির্বাচনী ফায়দার জন্য এই ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু শিরক মানব না — বন্দে মাতরম নিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানির কড়া বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, মুসলমানরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনা করতে পারে না—প্রয়োজনে তারা মৃত্যু মেনে নেবে, কিন্তু শিরক গ্রহণ করবে না।

চলমান ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন,

“আমরা মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু কখনোই শিরক মেনে নেব না।”

তিনি বলেন, “বন্দে মাতরম কেউ গাইলে বা পাঠ করলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলমানরা কেবল একজন আল্লাহরই উপাসনা করে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনায় যুক্ত করতে পারে না।”

তিনি জানান, ‘বন্দে মাতরম’-এর চারটি স্তবকে দেশকে “দুর্গা মাতা”-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং সেখানে উপাসনামূলক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়—

“মা, আমি তোমার উপাসনা করি”, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী নীতির পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, “এটি যেকোনো মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাই কাউকে তার বিশ্বাসের বিপরীতে কোনো স্লোগান বা গান গাইতে বাধ্য করা যায় না।”

তিনি ভারতের সংবিধানের ধারা ২৫ (ধর্মীয় স্বাধীনতা)ধারা ১৯ (মতপ্রকাশের স্বাধীনতা)-র কথা তুলে ধরে বলেন,

“সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।”

দেশপ্রেম ও উপাসনার পার্থক্য পরিষ্কার করে তিনি বলেন,

“দেশপ্রেম এক বিষয়, দেশকে উপাসনা করা ভিন্ন বিষয়। মুসলমানদের দেশপ্রেমের কোনো সনদের দরকার নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।”

তিনি পুনরায় বলেন, “আমরা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করি, কারও সামনে মাথা নত করি না। প্রয়োজনে মৃত্যু মেনে নেব, কিন্তু শিরক মেনে নেব না।”

এদিকে, সোমবার লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ১০ ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে বিশেষ অধিবেশনে এই আলোচনা অব্যাহত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৯৩৭ সালে গানটির কয়েকটি স্তবক বাদ দেওয়াকে “গানের বিভাজন” বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন,

“আগে বন্দে মাতরম ভাগ হলো, তারপর দেশ ভাগ হলো।”

তিনি এ জন্য কংগ্রেস ও জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, সরকার নির্বাচনী ফায়দার জন্য এই ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত