শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ফতেহগড় সাহিবের জাখওয়ালি গ্রামে মুসলিমদের নামাজের সংকট দূর করতে পাঁচ মারলা জমি দান, প্রশংসায় সর্বমহল

পাঞ্জাবে মসজিদের জন্য জমি দান করলেন এক শিখ নারী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাঞ্জাবে মসজিদের জন্য জমি দান করলেন এক শিখ নারী

ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো ভারতের পাঞ্জাবে। ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে এক শিখ পরিবার মুসলিমদের জন্য মসজিদ নির্মাণে নিজস্ব জমি দান করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছে।

ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে প্রয়াত জার্নাইল সিংয়ের স্ত্রী মাতা রাজেন্দ্র কৌর তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ মারলা জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করেন। পরিবারটি জানায়, বহু বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই জমি তারা মুসলিম প্রতিবেশীদের নামাজের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে দিয়েছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলো দৈনিক ও জুমার নামাজ আদায়ে জায়গার তীব্র সংকটে ভুগছিল। বিষয়টি শিখ পরিবারটির হৃদয় স্পর্শ করে। পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার দাদীর শ্রমে অর্জিত এই জমি। মুসলিম ভাইদের কষ্টে নামাজ পড়তে দেখে আমরা ব্যথিত হয়েছি। জমিটি দান করার পর আমরা অন্তরের শান্তি অনুভব করছি।”

ঐতিহাসিকভাবে জাখওয়ালি গ্রাম শিখদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নবম শিখ গুরু শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব একসময় এই গ্রাম পরিদর্শন করেছিলেন। স্থানীয়দের মতে, এই ঐতিহ্যই গ্রামে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পাঞ্জাবের শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান রহমানী লুধিয়ানভি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “পাঞ্জাবের মাটি আজও বিশ্বকে সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। এখানে মানুষ নিজের ধর্ম পালন করে, আবার অন্যের ধর্মকেও সম্মান করে। এই জমি ঘৃণার নয়, ভালোবাসার পক্ষ নিয়েছে।”

গ্রামের সাবেক সরপঞ্চ আজাইব সিং জাগওয়ালি বলেন, এই ঘটনা গ্রামে নতুন কিছু নয়। “আমাদের গ্রামে মুসলিম ভাইয়েরা শিখ ও হিন্দু উৎসবে অংশ নেন, সব কাজে সহযোগিতা করেন। আমরা সবাই এক পরিবারের মতো। এই জমি দানের মাধ্যমে আমাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হলো।”

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা জানান, এই দান তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করেছে। একজন বলেন, “এই দয়া আমরা কখনো ভুলব না। এটি আমাদের সম্মান ও স্বস্তি দিয়েছে। মসজিদটি মানবতার প্রতীক হয়ে থাকবে।”

এলাকাজুড়ে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই একে পাঞ্জাবের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্তিশালী স্মারক হিসেবে দেখছেন। মুসলিমদের কাছে এই জমি কেবল নামাজের স্থান নয়, বরং ধর্মের ঊর্ধ্বে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত প্রমাণ।

বিষয় : ভারত মসজিদ পাঞ্জাব

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


পাঞ্জাবে মসজিদের জন্য জমি দান করলেন এক শিখ নারী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো ভারতের পাঞ্জাবে। ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে এক শিখ পরিবার মুসলিমদের জন্য মসজিদ নির্মাণে নিজস্ব জমি দান করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছে।

ফতেহগড় সাহিব জেলার জাখওয়ালি গ্রামে প্রয়াত জার্নাইল সিংয়ের স্ত্রী মাতা রাজেন্দ্র কৌর তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ মারলা জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করেন। পরিবারটি জানায়, বহু বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই জমি তারা মুসলিম প্রতিবেশীদের নামাজের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে দিয়েছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলো দৈনিক ও জুমার নামাজ আদায়ে জায়গার তীব্র সংকটে ভুগছিল। বিষয়টি শিখ পরিবারটির হৃদয় স্পর্শ করে। পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার দাদীর শ্রমে অর্জিত এই জমি। মুসলিম ভাইদের কষ্টে নামাজ পড়তে দেখে আমরা ব্যথিত হয়েছি। জমিটি দান করার পর আমরা অন্তরের শান্তি অনুভব করছি।”

ঐতিহাসিকভাবে জাখওয়ালি গ্রাম শিখদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নবম শিখ গুরু শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিব একসময় এই গ্রাম পরিদর্শন করেছিলেন। স্থানীয়দের মতে, এই ঐতিহ্যই গ্রামে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পাঞ্জাবের শাহী ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ উসমান রহমানী লুধিয়ানভি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “পাঞ্জাবের মাটি আজও বিশ্বকে সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। এখানে মানুষ নিজের ধর্ম পালন করে, আবার অন্যের ধর্মকেও সম্মান করে। এই জমি ঘৃণার নয়, ভালোবাসার পক্ষ নিয়েছে।”

গ্রামের সাবেক সরপঞ্চ আজাইব সিং জাগওয়ালি বলেন, এই ঘটনা গ্রামে নতুন কিছু নয়। “আমাদের গ্রামে মুসলিম ভাইয়েরা শিখ ও হিন্দু উৎসবে অংশ নেন, সব কাজে সহযোগিতা করেন। আমরা সবাই এক পরিবারের মতো। এই জমি দানের মাধ্যমে আমাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হলো।”

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা জানান, এই দান তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করেছে। একজন বলেন, “এই দয়া আমরা কখনো ভুলব না। এটি আমাদের সম্মান ও স্বস্তি দিয়েছে। মসজিদটি মানবতার প্রতীক হয়ে থাকবে।”

এলাকাজুড়ে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই একে পাঞ্জাবের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্তিশালী স্মারক হিসেবে দেখছেন। মুসলিমদের কাছে এই জমি কেবল নামাজের স্থান নয়, বরং ধর্মের ঊর্ধ্বে প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত প্রমাণ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত